رَبِّ انْصُرْنِي عَلَى الْقَوْمِ الْمُفْسِدِينَ.
رَبِّ انْصُرْنِي عَلَى الْقَوْمِ الْمُفْسِدِينَ
অডিও লোড করা যায়নি। পরে আবার চেষ্টা করুন।
সে বলল- হে আমার প্রতিপালক! ফাসাদ সৃষ্টিকারী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য কর।
রূপ: আদেশসূচক ক্রিয়ারূপ “উনসুরনী” (انْصُرْنِي)। এই দোয়াটি লূত (আ.) তাঁর সেই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে করেছিলেন, যারা অশ্লীলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল এবং পৃথিবীতে ফাসাদ ছড়িয়েছিল।
শাইখ আবদুর রহমান আস-সা’দির তাফসির
তাঁর সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আর কোনো আশা না থাকায় নবী তাদের ব্যাপারে নিরাশ হলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, তারা শাস্তির উপযুক্ত হয়েছে। তাদের কঠোরভাবে তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করায় তিনি ব্যথিত হলেন। তাই তিনি তাদের বিরুদ্ধে দোয়া করলেন এবং বললেন: “হে আমার প্রতিপালক! ফাসাদ সৃষ্টিকারী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন।” আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করলেন।
ইমাম ইবন কাসিরের তাফসির
২৮-৩০ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তা'আলা তার নবী হযরত লূত (আঃ) সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি তাঁর কওমকে তাদের বদভ্যাস হতে বাধা দিতে থাকেন। তাদেরকে তিনি বলেনঃ “তোমাদের মত অশ্লীল কর্ম তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেউই করেনি। কুফরী, রাসূলকে অবিশ্বাস, আল্লাহর হুকুমের বিরোধিতা ইত্যাদি তো তারা করতোই, কিন্তু তারা পুরুষে উপগত হতো, যে কাজ তাদের পূর্বে ভূ-পৃষ্ঠে কেউ কখনো করেনি। দ্বিতীয় বদভ্যাস তাদের এই ছিল যে, তারা রাহাজানি করতো, লুটপাট করতো, হত্যা করতো এবং অশান্তি ও বিশৃংখলা সৃষ্টি করতো।
নিজেদের মজলিসে, সভা-সমিতিতে তারা প্রকাশ্যে ঘৃণ্য কর্মে লিপ্ত হয়ে পড়তো। কেউ কাউকেও বাধা দিতো না। এমন কি কেউ কেউ তো বলেন যে, হস্তমৈথুনও তারা প্রকাশ্যভাবে করতো। তারা পরস্পর গুহ্যদ্বার দিয়ে বায় ছেড়ে দিয়ে হো হো করে হাসতো, ভেড়া লড়াতো, মোরগ লড়াতো এবং এ ধরনের আরো বহু অসার ও বাজে কাজে তারা লিপ্ত থাকতো।
প্রকাশ্যভাবে আমোদ-ফুর্তি করে তারা পাপের কাজ করতো। হাদীস শরীফে আছে যে, তারা পথচারীদের সামনে চীৎকার ও হট্টগোল করতো এবং তাদের দিকে পাথর নিক্ষেপ করতো। তারা বাঁশী বাজাতো, কবুতর উড়াতো ও উলঙ্গ হয়ে যেতো। কুফরী, হঠকারিতা এবং ঔদ্ধত্যপনা তাদের এতো বেড়ে গিয়েছিল যে, নবী (আঃ)-এর উপদেশের জবাবে তাঁকে তারা বলতোঃ “ছেড়ে দাও তোমার উপদেশবাণী।
যদি তুমি সত্যবাদী হও তবে আমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি আনয়ন কর।” শেষে অসহ্য হয়ে হযরত লুত (আঃ) আল্লাহর সামনে হাত বাড়িয়ে দিয়ে প্রার্থনা করেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! বিপর্যয় সৃষ্টিকারী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন।”
আল-বাগাভির তাফসির
“তিনি”—অর্থাৎ লূত (আ.)—বললেন: “হে আমার প্রতিপালক! ফাসাদ সৃষ্টিকারী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন”—অর্থাৎ শাস্তি সম্পর্কে আমার বক্তব্য সত্য প্রমাণিত করে।
সহীহ আল-বুখারী (৩৩৭৩)-এ ইবরাহীম (আ.) ও লূত (আ.)-এর কাছে আগত ফেরেশতাদের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।