জান্নাতে প্রবেশের পর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ، إِنَّ. رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورٌ الَّذِي أَحَلَّنَا دَارَ الْمُقَامَةِ مِنْ، فَضْلِهِ لَا يَمَسُّنَا فِيهَا نَصَبٌ، وَلَا يَمَسُّنَا فِيهَا لُغُوبٌ.
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورٌ الَّذِي أَحَلَّنَا دَارَ الْمُقَامَةِ مِنْ فَضْلِهِ لَا يَمَسُّنَا فِيهَا نَصَبٌ وَلَا يَمَسُّنَا فِيهَا لُغُوبٌ
অডিও লোড করা যায়নি। পরে আবার চেষ্টা করুন।
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিয়েছেন। আমাদের প্রতিপালক অবশ্যই পরম ক্ষমাশীল, (ভাল কাজের) বড়ই মর্যাদাদানকারী। যিনি স্বীয় অনুগ্রহে আমাদেরকে স্থায়ী আবাস দান করেছেন। সেখানে ক্লেশ আমাদেরকে স্পর্শ করে না, ক্লান্তিও আমাদেরকে স্পর্শ করে না।
রূপ: জান্নাতের বাগানে প্রবেশের সময় নেককারদের আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতামূলক মুনাজাত (হামদ)।
শাইখ আবদুর রহমান আস-সা’দির তাফসির
(الَّذِي أَحَلَّنَا) অর্থাৎ, তিনি আমাদের সেখানে এমনভাবে অবতরণ করিয়েছেন যে আমরা স্থায়ীভাবে বসবাস করছি; সাময়িকভাবে অবস্থান করে চলে যাওয়ার মতো নয়। (دَارَ الْمُقَامَةِ) অর্থাৎ, এমন আবাস যেখানে বসবাস চিরস্থায়ী এবং যেখানে থাকতে মন চায়; কারণ সেখানে অফুরন্ত কল্যাণ, একের পর এক আনন্দ এবং সব ধরনের অস্বস্তির অবসান রয়েছে। (مِنْ فَضْلِهِ) অর্থাৎ, তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় তিনি আমাদের সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করেছেন; আমাদের আমলের কারণে নয়। তাঁর অনুগ্রহ না হলে আমরা যে মর্যাদায় পৌঁছেছি, সেখানে পৌঁছতে পারতাম না।
(لَا يَمَسُّنَا فِيهَا نَصَبٌ وَلَا يَمَسُّنَا فِيهَا لُغُوبٌ) অর্থাৎ, শরীরে, অন্তরে কিংবা শক্তিতে কোনো ক্লান্তি থাকবে না; প্রাচুর্যের সঙ্গে ভোগ করলেও ক্লান্তি আসবে না। এ থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ তাদের দেহকে পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ গঠনে সৃষ্টি করবেন এবং তাদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন আরামের উপকরণ প্রস্তুত রাখবেন। ফলে তাদের কোনো ক্লান্তি, অবসাদ, দুশ্চিন্তা কিংবা বিষাদ স্পর্শ করবে না। এ কথাও বোঝা যায় যে, জান্নাতবাসীরা ঘুমাবেন না; কারণ ঘুমের উদ্দেশ্য হলো ক্লান্তি দূর করে আরাম পাওয়া, অথচ জান্নাতবাসীদের অবস্থা এর বিপরীত।
তা ছাড়া ঘুম হলো এক ধরনের ক্ষুদ্র মৃত্যু, আর জান্নাতবাসীদের মৃত্যু হবে না। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাদেরও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
(وَ) যখন তাদের নিয়ামত পূর্ণতা পাবে এবং আনন্দ সম্পূর্ণ হবে, তখন (قَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ) তারা বলবে: “সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের দুঃখ দূর করেছেন।” এতে সব ধরনের দুঃখ অন্তর্ভুক্ত। তাদের সৌন্দর্য, খাবার-পানীয়, আনন্দ, দেহ কিংবা সেখানে চিরকাল অবস্থানের ক্ষেত্রে কোনো অপূর্ণতার কারণে তাদের মনে দুঃখ হবে না। তারা এমন নিয়ামতের মধ্যে থাকবে, যার চেয়ে বেশি কিছু তারা কল্পনা করে না; অথচ তা অনন্তকাল ধরে ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকবে।
(إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ) নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক অত্যন্ত ক্ষমাশীল—তিনি আমাদের ত্রুটিবিচ্যুতি ক্ষমা করেছেন। (شَكُورٌ) তিনি গুণগ্রাহী—আমাদের সৎকর্ম কবুল করেছেন, সেগুলোর প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়েছেন এবং নিজ অনুগ্রহে আমাদের এমন কিছু দিয়েছেন, যা আমাদের আমল কিংবা আকাঙ্ক্ষার সীমায় পৌঁছায়নি। তাঁর ক্ষমায় তারা প্রতিটি অপছন্দনীয় ও ভীতিকর বিষয় থেকে মুক্তি পেয়েছে; আর তাঁর কৃতজ্ঞতা-স্বীকৃতি ও অনুগ্রহে তারা সব কাঙ্ক্ষিত ও প্রিয় বস্তু লাভ করেছে।
ইমাম ইবন কাসিরের তাফসির
৩৩-৩৫ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ্ তা'আলা খবর দিচ্ছেনঃ সৌভাগ্যবান লোকদেরকে আমি আমার কিতাবের ওয়ারিশ করেছি, আর কিয়ামতের দিন তাদেরকে আমি চিরস্থায়ী নিয়ামত বিশিষ্ট জান্নাতে প্রবিষ্ট করবো। সেখানে আমি তাদেরকে স্বর্ণ ও মুক্তা নির্মিত কংকন পরাবো। যেমন সহীহ হাদীসে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “মুমিনের অলংকার ঐ পর্যন্ত হবে যে পর্যন্ত অযুর পানি পৌছে থাকে।” সেখানে তাদের পোশাক হবে খাঁটী রেশমের, দুনিয়ায় তাদেরকে যা পরিধান করতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে।
সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “দুনিয়ায় যে ব্যক্তি রেশম পরিধান করবে, আখিরাতে সে তা পরিধান করতে পাবে না।” তিনি আরো বলেছেনঃ “এটা (রেশম) তাদের (কাফিরদের) জন্যে দুনিয়ায় এবং তোমাদের (মুসলমানদের) জন্যে আখিরাতে।” হযরত আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) জান্নাতবাসীদের অলংকারের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ “তাদেরকে স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলংকার পরানো হবে। সেগুলো মণি-মুক্তা দ্বারা জড়ানো হবে।
তাদের (মাথার) উপর রাজা-বাদশাহৃদের মুকুটের মত মুকুট থাকবে যা মণি-মুক্তা দ্বারা নির্মিত হবে। তারা হবে নব্য যুবক। তাদের দাড়ি-গোঁফ গজাবে না। তাদের চোখে সুরমা দেয়া থাকবে।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)তারা বলবেঃ প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দূরীভূত করেছেন।
যিনি আমাদের থেকে দুনিয়া ও আখিরাতের চিন্তা, উদ্বেগ, লজ্জা ও অনুতাপ দূর করে দিয়েছেন। হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “যারা লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ (আরবী) পাঠ করে তাদের কবরে ও হাশরের ময়দানে কোন ভয়-ভীতি থাকবে না। আমি যেন দেখতে পাচ্ছি যে, তারা তাদের মাথা হতে মাটি ঝেড়ে ফেলছে এবং বলছেঃ প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের ভয়-ভীতি ও দুঃখ দুর্দশা দূর করে দিয়েছেন।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠকারীদের মৃত্যুর সময়, কবরে এবং কবর হতে উঠবার সময় কোনই ভয়-ভীতি থাকবে না।
আমি যেন দেখতে পাচ্ছি যে, পুনরুত্থানের সময় তারা তাদের মাথা হতে মাটি ঝেড়ে ফেলছে এবং বলছেঃ প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দূরীভূত করেছেন। আমাদের প্রতিপালক তো ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী'।” (এ হাদীসটি তিবরানী (রঃ) বর্ণনা করেছেন) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, তাদের বড় বড় পাপগুলো ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে এবং ছোট ছোট নেকীগুলো মর্যাদার সাথে কবুল করা হয়েছে। তারা আরো বলবেঃ ‘শোকর আল্লাহর যিনি নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে স্থায়ী আবাস দিয়েছেন।
আমাদের আমল তো এর যোগ্যই ছিল না। যেমন সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের কাউকেও তার আমল কখনো জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবে না।” সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনাকেও না?” তিনি উত্তরে বললেনঃ “হ্যা, আমাকেও , তবে এ অবস্থায় যে, আমার প্রতি আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ হবে।”
তারা বলবেঃ এখানে তো ক্লেশ আমাদেরকে স্পর্শ করে না এবং ক্লান্তিও স্পর্শ করে না।' রূহ্-এ আলাদা খুশী এবং দেহেও আলাদা শান্তি। দুনিয়ায় তাদেরকে আল্লাহর পথে যে কষ্ট ভোগ করতে হয়েছিল এটা তারই প্রতিদান। আজ শুধু শান্তি আর শান্তি।
তাদেরকে বলে দেয়া হবেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা পানাহার কর তৃপ্তি সহকারে, তোমরা অতীত দিনে যা করেছিলে তার বিনিময়ে।” (৬৯:২৪)
৩৩-৩৫ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ্ তা'আলা খবর দিচ্ছেনঃ সৌভাগ্যবান লোকদেরকে আমি আমার কিতাবের ওয়ারিশ করেছি, আর কিয়ামতের দিন তাদেরকে আমি চিরস্থায়ী নিয়ামত বিশিষ্ট জান্নাতে প্রবিষ্ট করবো। সেখানে আমি তাদেরকে স্বর্ণ ও মুক্তা নির্মিত কংকন পরাবো। যেমন সহীহ হাদীসে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “মুমিনের অলংকার ঐ পর্যন্ত হবে যে পর্যন্ত অযুর পানি পৌছে থাকে।” সেখানে তাদের পোশাক হবে খাঁটী রেশমের, দুনিয়ায় তাদেরকে যা পরিধান করতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে।
সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “দুনিয়ায় যে ব্যক্তি রেশম পরিধান করবে, আখিরাতে সে তা পরিধান করতে পাবে না।” তিনি আরো বলেছেনঃ “এটা (রেশম) তাদের (কাফিরদের) জন্যে দুনিয়ায় এবং তোমাদের (মুসলমানদের) জন্যে আখিরাতে।” হযরত আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) জান্নাতবাসীদের অলংকারের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ “তাদেরকে স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলংকার পরানো হবে। সেগুলো মণি-মুক্তা দ্বারা জড়ানো হবে।
তাদের (মাথার) উপর রাজা-বাদশাহৃদের মুকুটের মত মুকুট থাকবে যা মণি-মুক্তা দ্বারা নির্মিত হবে। তারা হবে নব্য যুবক। তাদের দাড়ি-গোঁফ গজাবে না। তাদের চোখে সুরমা দেয়া থাকবে।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)তারা বলবেঃ প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দূরীভূত করেছেন।
যিনি আমাদের থেকে দুনিয়া ও আখিরাতের চিন্তা, উদ্বেগ, লজ্জা ও অনুতাপ দূর করে দিয়েছেন। হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “যারা লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ (আরবী) পাঠ করে তাদের কবরে ও হাশরের ময়দানে কোন ভয়-ভীতি থাকবে না। আমি যেন দেখতে পাচ্ছি যে, তারা তাদের মাথা হতে মাটি ঝেড়ে ফেলছে এবং বলছেঃ প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের ভয়-ভীতি ও দুঃখ দুর্দশা দূর করে দিয়েছেন।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠকারীদের মৃত্যুর সময়, কবরে এবং কবর হতে উঠবার সময় কোনই ভয়-ভীতি থাকবে না।
আমি যেন দেখতে পাচ্ছি যে, পুনরুত্থানের সময় তারা তাদের মাথা হতে মাটি ঝেড়ে ফেলছে এবং বলছেঃ প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দূরীভূত করেছেন। আমাদের প্রতিপালক তো ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী'।” (এ হাদীসটি তিবরানী (রঃ) বর্ণনা করেছেন) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, তাদের বড় বড় পাপগুলো ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে এবং ছোট ছোট নেকীগুলো মর্যাদার সাথে কবুল করা হয়েছে। তারা আরো বলবেঃ ‘শোকর আল্লাহর যিনি নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে স্থায়ী আবাস দিয়েছেন।
আমাদের আমল তো এর যোগ্যই ছিল না। যেমন সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের কাউকেও তার আমল কখনো জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবে না।” সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনাকেও না?” তিনি উত্তরে বললেনঃ “হ্যা, আমাকেও , তবে এ অবস্থায় যে, আমার প্রতি আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ হবে।”
তারা বলবেঃ এখানে তো ক্লেশ আমাদেরকে স্পর্শ করে না এবং ক্লান্তিও স্পর্শ করে না।' রূহ্-এ আলাদা খুশী এবং দেহেও আলাদা শান্তি। দুনিয়ায় তাদেরকে আল্লাহর পথে যে কষ্ট ভোগ করতে হয়েছিল এটা তারই প্রতিদান। আজ শুধু শান্তি আর শান্তি।
তাদেরকে বলে দেয়া হবেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা পানাহার কর তৃপ্তি সহকারে, তোমরা অতীত দিনে যা করেছিলে তার বিনিময়ে।” (৬৯:২৪)
আল-বাগাভির তাফসির
(وقالوا) অর্থাৎ, জান্নাতে প্রবেশ করার পর তারা বলবে:
(الحمد لله الذي أذهب عنا الحزن) “সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের দুঃখ দূর করেছেন।” ‘আল-হাযান’ ও ‘আল-হুযন’ একই অর্থবোধক—যেমন ‘আল-বুখল’ ও ‘আল-বুখল’। ইবন আব্বাস বলেছেন: এর অর্থ জাহান্নামের দুঃখ। কাতাদা বলেছেন: মৃত্যুর দুঃখ।
মুকাতিল বলেছেন: তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন, কারণ আল্লাহ তাদের সঙ্গে কী আচরণ করবেন তা তারা জানতেন না। ইকরিমা বলেছেন: পাপ ও মন্দ কাজের দুঃখ, এবং আনুগত্যের কাজ প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কা। আল-কাসিম বলেছেন: নিয়ামত হারিয়ে যাওয়া ও অন্তরের অবস্থার পরিবর্তনের দুঃখ, এবং পরিণতি নিয়ে ভয়। আরও বলা হয়েছে: কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতার দুঃখ।
আল-কালবি বলেছেন: কিয়ামতের দিনের বিষয় নিয়ে দুনিয়ায় যে দুশ্চিন্তা তাদের পীড়িত করত। সাঈদ ইবন জুবাইর বলেছেন: দুনিয়ার খাদ্যের চিন্তা। আরও বলা হয়েছে: জীবিকা-নির্বাহের দুশ্চিন্তা। আয-যাজ্জাজ বলেছেন: জান্নাতবাসীদের কাছ থেকে আল্লাহ সব দুঃখ দূর করে দেবেন—তা জীবিকা-সংক্রান্ত হোক বা পরকাল-সংক্রান্ত।
আমাদের কাছে আবু আল-হাসান আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আদ-দাহহাক আল-খতীব বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবন মুহাম্মদ আল-ইসফারায়িনি আমাদের বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আবু বকর আহমদ ইবন ইবরাহিম আল-ইসমাঈলি আমাদের বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবন মুহাম্মদ আত-তুরাবি আমাদের বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবন আবদুল হামিদ আমাদের বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবন যায়দ ইবন আসলাম তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে, তাদের কবরেও কোনো নিঃসঙ্গতা নেই, পুনরুত্থানের সময়ও নেই।
আমার যেন চোখের সামনে ভাসছে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলনেওয়ালারা মাথা থেকে মাটি ঝেড়ে ফেলছে আর বলছে: ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের দুঃখ দূর করেছেন।’”
আল্লাহর বাণী: (إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورٌ) “নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক অত্যন্ত ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী।”
(الذي أحلنا) অর্থাৎ, তিনি আমাদের অবতরণ করিয়েছেন। (دار المقامة) অর্থাৎ, স্থায়ী বসবাসের আবাস। (من فضله لا يمسنا فيها نصب) অর্থাৎ, সেখানে কোনো দুর্ভোগ ও কষ্ট আমাদের স্পর্শ করবে না। (ولا يمسنا فيها لغوب) অর্থাৎ, ক্লান্তিজনিত অবসাদ আমাদের স্পর্শ করবে না।
«সহিহ আল-বুখারি» (নং ৬৫৪৯)-এ বর্ণিত হয়েছে: “জান্নাতে একজন ঘোষক ঘোষণা করবেন: ‘নিশ্চয়ই তোমরা সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না; তোমরা জীবিত থাকবে, কখনো মৃত্যুবরণ করবে না!’”