رَبَّنَا آمَنَّا، فَاغْفِرْ لَنَا، وَارْحَمْنَا، وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ.
رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
অডিও লোড করা যায়নি। পরে আবার চেষ্টা করুন।
আমার বান্দাহদের একদল বলত- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি, তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর, আমাদের প্রতি দয়া কর, তুমি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’
গঠন: ‘ইগফির’ (اغْفِرْ) ও ‘ইরহামনা’ (ارْحَمْنَا)—এই দুটি ক্রিয়াপদ। এটি সেই মুমিনদের দোয়া, যাদেরকে দুনিয়ার জীবনে পাপাচারীরা উপহাস করত, অথচ তারা চিরস্থায়ী জান্নাত লাভ করেছে।
শাইখ আবদুর রহমান আস-সা’দির তাফসির
এরপর তিনি সেই অবস্থা উল্লেখ করেছেন, যা তাদেরকে শাস্তির দিকে নিয়ে গিয়েছিল এবং তাদের থেকে রহমত বিচ্ছিন্ন করেছিল। তিনি বলেন: “আমার বান্দাদের একদল বলত: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি, অতএব আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন; আর আপনিই দয়াকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম।’” তারা এমন ঈমানের সমন্বয় করেছিল, যা সৎকর্মের দাবি করে; তাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা ও রহমতের দোয়া করেছিল; তাঁর রবুবিয়্যাতের ওসিলায় এবং তাদের প্রতি ঈমানের অনুগ্রহ করার কথা উল্লেখ করে তাঁর নৈকট্য প্রার্থনা করেছিল; আর তাঁর রহমতের ব্যাপকতা ও তাঁর অনুগ্রহের সর্বব্যাপিতা প্রকাশ করেছিল।
এর অন্তর্নিহিত অর্থে তাদের প্রতিপালকের সামনে বিনয় ও বিনম্রতা, তাঁর প্রতি নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ, তাঁর ভয় এবং তাঁর কাছে প্রত্যাশাও বোঝায়।
ইমাম ইবন কাসিরের তাফসির
১০৮-১১১ নং আয়াতের তাফসীর: এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে কাফিরদেরকে জবাব দেয়া হচ্ছে যে, যখন তারা জাহান্নাম হতে বের হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে তখন তাদেরকে বলা হবেঃ তোমরা হীন অবস্থায় এখানেই থাকো। খবরদার! এ ব্যাপারে তোমরা আমার সাথে কথা বলো না! প্রম দয়ালু ও দাতা আল্লাহর হবে এটা উক্তি।
কাফির ও মুশরিকরা সমস্ত কল্যাণ থেকে নিরাশ হয়ে যাবে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন যে, জাহান্নামীরা প্রথমে জাহান্নামের রক্ষককে ডাকতে থাকবে। ডাকতে থাকবে তারা চল্লিশ বছর পর্যন্ত। কিন্তু কোন উত্তর তারা পাবে না। চল্লিশ বছর পরে উত্তর দেয়া হবেঃ “তোমরা এখানেই পড়ে থাকো।”
জাহান্নামের রক্ষকের কাছে এবং মহান আল্লাহর কাছে তাদের ডাকের কোনই গুরুত্ব থাকবে না। আবার তারা আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করবে ও বলবেঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুর্ভাগ্যের কারণে আমরা ধ্বংস হয়ে গিয়েছি এবং বিভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত হয়েছি। হে আল্লাহ!
এখন আপনি আমাদেরকে এখান থেকে বের করে নিন এবং পুনরায় দুনিয়ায় পাঠিয়ে দিন! এরপরেও যদি আমরা মন্দ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ি তবে আপনার ইচ্ছামত শাস্তি আপনি দিবেন। আমাদের আর কিছুই বলার থাকবে না। তাদের এ কথার জবাব তাদেরকে এই দুনিয়ার দ্বিগুণ বয়স পর্যন্তও দেয়া হবে না।
তারপর তাদেরকে বলা হবেঃ “তোমরা আমার রহমত হতে দূর হয়ে গিয়ে এই জাহান্নামের মধ্যেই লাঞ্ছিত অবস্থায় অবস্থান করতে থাকো। আমার সাথে আর একটি কথাও বলো না।” তখন তারা সম্পূর্ণরূপে নিরাশ হয়ে যাবে এবং গাধার মত বিকট শব্দ করতে থাকবে। ঐ সময় তাদের চেহারা বদলে যাবে এবং তাদের সুন্দর আকৃতি কদাকৃতিতে রূপান্তরিত হবে।
এমন কি কতকগুলো, মুমিন ব্যক্তি শাফাআতের অনুমতি লাভ করে এখানে আসবে কিন্তু তাদের কাউকেও চিনতে পারবে না। জাহান্নামীরা তাদেরকে দেখে বলবেঃ “আমি অমুক।” কিন্তু তারা তাদেরকে উত্তরে বলবেঃ “তোমরা মিথ্যা বলছো, আমরা তোমাদেরকে চিনি না।” তখন ঐ জাহান্নামীরা মহান আল্লাহকে ডাকতে থাকবে।
উত্তরে তাদেরকে যে কথা বলা হবে তা উপরে বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর জাহান্নামের দরযা বন্ধ করে দেয়া হবে এবং তারা সেখানেই সড়তে পচতে থাকবে। তাদেরকে লজ্জিত করার উদ্দেশ্যে তাদের সামনে এক বড় পাপকার্য পেশ করা হবে। মহান আল্লাহ তাদেরকে বলবেনঃ আমার বান্দাদের মধ্যে এক দল এমন ছিল যারা বলতো-হে আমাদের প্রতিপালক!
আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন ও আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। কিন্তু হে জাহান্নামীর দল! তোমরা আমার ঐ বান্দাদেরকে নিয়ে এতো ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে যে, ওটা তোমাদেরকে আমার কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল। তোমরা তো তাদেরকে নিয়ে হাসি ঠাট্টাই করতে।
যেমন অন্য জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “পাপীরা মুমিনদেরকে দেখে হাসততা ও তাদেরকে উপহাস করতো।” (৮৩:২৯)তাই আল্লাহ তাআলা জাহান্নামীদেরকে বলবেনঃ আমি আজ আমার ঐ মমিন বান্দাদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে এমনভাবে পুরস্কৃত করলাম যে, তারাই হলো সফলকাম। আমি তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে নিলাম এবং জান্নাতে প্রবিষ্ট করলাম।
আল-বাগাভির তাফসির
“নিশ্চয়ই”—এখানে “নিশ্চয়ই” শব্দের ‘হা’ হলো সংযোজক; একে ‘মাজহুলা’ও বলা হয়। “আমার বান্দাদের একদল”—তারা হলো মুমিনরা। “তারা বলত: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি, অতএব আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন; আর আপনিই দয়াকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম।’”
সহিহ মুসলিমে (নং ২৮৬৫) ধৈর্যশীল দরিদ্র ও বিনয়ী মুমিনদের মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে—তারা জান্নাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ধনীদের অতিক্রম করবে।