দোয়া 24 পরিবার ও সন্তান-সন্ততি 24 মিনিট পড়তে

শিরক থেকে সুরক্ষা ও সালাত

ইবরাহীম (আ.) 14:35–41
আরবি পাঠ

رَبِّ اجْعَلْ هَٰذَا الْبَلَدَ آمِنًا، وَاجْنُبْنِي، وَبَنِيَّ، أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنَامَ. رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ، فَمَنْ تَبِعَنِي، فَإِنَّهُ مِنِّي، وَمَنْ عَصَانِي، فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ. رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ. رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ، فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ، وَارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ. رَبَّنَا، إِنَّكَ تَعْلَمُ مَا نُخْفِي، وَمَا نُعْلِنُ، وَمَا يَخْفَىٰ عَلَى اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ فِي الْأَرْضِ، وَلَا فِي السَّمَاءِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي، وَهَبَ لِي عَلَى الْكِبَرِ إِسْمَاعِيلَ، وَإِسْحَاقَ، إِنَّ رَبِّي لَسَمِيعُ الدُّعَاءِ. رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ، وَمِنْ ذُرِّيَّتِي. رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ. رَبَّنَا اغْفِرْ لِي، وَلِوَالِدَيَّ، وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ.

رَبِّ اجْعَلْ هَٰذَا الْبَلَدَ آمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنَامَ رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِنْدَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُمْ مِنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ رَبَّنَا إِنَّكَ تَعْلَمُ مَا نُخْفِي وَمَا نُعْلِنُ وَمَا يَخْفَىٰ عَلَى اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَهَبَ لِي عَلَى الْكِبَرِ إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِنَّ رَبِّي لَسَمِيعُ الدُّعَاءِ رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ

আরবি পাঠ হরকতসহ কুরআন থেকে নেওয়া হয়েছে। إبراهيم 14:35–41
দোয়া শুনুন 0:00 0:00
কণ্ঠস্বর
প্রতিবর্ণীকরণ Rabbi ij‘al hādhā al-balada āminan waj’nubnī wa baniyya an na‘buda al-aṣnām. Rabbi innahunna aḍlalna kathīran mina an-nāsi, faman tabi‘anī fa’innahu minnī, wa man ‘aṣānī fa’innaka ghafūrun raḥīm. Rabbanā innī askantu min dhurriyyatī biwādin ghayri dhī zar‘in ‘inda baytika al-muḥarrami, rabbanā liyuqīmū aṣ-ṣalāta faj‘al af’idatan mina an-nāsi tahwī ilayhim warzuqhum mina ath-thamarāti la‘allahum yashkurūn. Rabbanā innaka ta‘lamu mā nukhfī wa mā nu‘linu wa mā yakhfā ‘alā Allāhi min shay’in fī al-arḍi wa lā fī as-samā’. Al-ḥamdu lillāhi alladhī wahaba lī ‘alā al-kibari Ismā‘īla wa Isḥāqa inna rabbī lasamī‘u ad-du‘ā’. Rabbi ij‘alnī muqīma aṣ-ṣalāti wa min dhurriyyatī rabbanā wa taqabbal du‘ā’. Rabbanā ighfir lī wa liwālidayya wa lil-mu’minīna yawma yaqūmu al-ḥisāb.
ভাবানুবাদ
Taisirul QuranBN

স্মরণ কর, ইবরাহীম যখন বলেছিল, ‘হে আমার রব্ব! তুমি এ নগরীকে নিরাপদ কর আর আমাকে আর আমার সন্তানদেরকে প্রতিমা পূজা থেকে রক্ষা কর। হে আমার প্রতিপালক! এ (প্রতিমা)-গুলো বহু সংখ্যক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে। কাজেই (প্রতিমাগুলোকে বাদ দিয়ে) যারা আমাকে অনুসরণ করবে তারা আমার দলভুক্ত। আর যে আমার অবাধ্য হবে সেক্ষেত্রে তুমি তো বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু। হে আমাদের প্রতিপালক! আমি আমার সন্তানদের একাংশকে শস্যক্ষেতহীন উপত্যকায় তোমার সম্মানিত ঘরের নিকট পুনর্বাসিত করলাম। হে আমার প্রতিপালক! তারা যাতে নামায কায়িম করে। কাজেই তুমি মানুষের অন্তরকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দাও আর ফল-ফলাদি দিয়ে তাদের জীবিকার ব্যবস্থা কর যাতে তারা শুকরিয়া আদায় করে। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তো জান যা আমরা গোপন করি আর যা প্রকাশ করি, আসমান ও যমীনের কোন বস্তুই আল্লাহ হতে গোপন নেই। যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমার বার্ধক্য অবস্থায় আমাকে ইসমাঈল ও ইসহাককে দান করেছেন, আমার প্রতিপালক অবশ্যই আহবান শ্রবণকারী। হে আমার প্রতিপালক! আমাকে নামায প্রতিষ্ঠাকারী বানাও আর আমার সন্তানদেরকেও, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমার প্রার্থনা কবূল কর। হে আমাদের প্রতিপালক! হিসাব গ্রহণের দিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে আর মু’মিনদেরকে ক্ষমা করে দিও,

অর্থ ও বৈশিষ্ট্য

দোয়ার বাক্যরূপ: ‘ইজনুবনী’ (اجْنُبْنِي—আমাকে রক্ষা করো), ‘ইজ‘আলনী’ (اجْعَلْنِي—আমাকে বানাও) এবং ‘লِي اغْفِرْ’ (আমাকে ক্ষমা করো)। এতে শিরক থেকে নিরাপত্তা, সালাত প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকা এবং মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা অন্তর্ভুক্ত।

ব্যাখ্যা ও শিক্ষা

শাইখ আবদুর রহমান আস-সা’দির তাফসির

ইবরাহীম (আ.) হাজেরা—ইসমাঈল (আ.)-এর মা—এবং দুগ্ধপোষ্য পুত্র ইসমাঈলকে নিয়ে শাম থেকে মক্কায় এসেছিলেন। তখন সেখানে কোনো বসতি ছিল না, কাউকে আহ্বান করার মতো কেউ ছিল না, আর আহ্বানে সাড়া দেওয়ারও কেউ ছিল না। তিনি তাঁদের সেখানে রেখে এই দোয়া করেছিলেন।

নিজের রবের কাছে বিনয় প্রকাশ করে ও তাঁর ওপর ভরসা রেখে বলেছিলেন: ‘হে আমাদের রব! আমি আমার বংশধরদের একাংশকে বসবাস করিয়েছি’—অর্থাৎ তাঁদের সবাইকে নয়; কেননা ইসহাক (আ.) শামে ছিলেন এবং তাঁর অন্য পুত্ররাও সেখানে ছিলেন। মক্কায় তিনি ইসমাঈল (আ.)

ও তাঁর বংশধরদের বসবাস করিয়েছিলেন। ‘শস্যহীন উপত্যকায়’—কারণ মক্কার জমি চাষাবাদের উপযোগী নয়।

‘হে আমাদের রব! যাতে তারা সালাত কায়েম করে’—অর্থাৎ তাদের তাওহীদবাদী ও সালাত প্রতিষ্ঠাকারী বানাও। সালাত কায়েম করা দ্বীনের ইবাদতগুলোর মধ্যে অন্যতম বিশেষ ও শ্রেষ্ঠ ইবাদত। যে সালাত কায়েম করে, সে তার দ্বীনও প্রতিষ্ঠা করে। ‘অতএব, মানুষের অন্তরকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দাও’—অর্থাৎ তাদের ভালোবাসে এমন করো এবং তারা যে স্থানে বসবাস করছে, সেই স্থানকেও ভালোবাসে এমন করো।

আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেছিলেন। ইসমাঈল (আ.)-এর বংশধরদের মধ্য থেকে মুহাম্মদ (সা.)-কে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি তাঁর বংশধরদের ইসলামী দ্বীন এবং তাঁদের পিতা ইবরাহীমের মিল্লাতের দিকে আহ্বান করেছিলেন; তারা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল এবং সালাত প্রতিষ্ঠাকারী হয়েছিল। আল্লাহ ইবরাহীমের বংশধরদের যে ঘরে বসবাস করিয়েছিলেন, সেই ঘরের হজ ফরজ করেছেন।

আর সেখানে এমন এক বিস্ময়কর আকর্ষণ রেখেছেন, যা অন্তরগুলোকে টেনে আনে। মানুষ সেখানে হজ করতে যায়, তবু তার তৃষ্ণা কখনো মেটে না; বরং বান্দা যতবার সেখানে যায়, তার আকাঙ্ক্ষা তত বাড়ে, তার আসক্তি ও আকুলতা তত গভীর হয়। এটিই সেই গোপন রহস্য, যার কারণে আল্লাহ এই ঘরকে তাঁর পবিত্র সত্তার সঙ্গে সম্বন্ধিত করেছেন।

‘আর তাদের ফলমূল থেকে রিযিক দাও, যাতে তারা কৃতজ্ঞ হয়।’ আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেছিলেন। ফলে সব ধরনের ফল সেখানে নিয়ে আসা হয়। তুমি সব সময় সম্মানিত মক্কায় প্রচুর ফল দেখতে পাবে এবং চারদিক থেকে সেখানে রিযিক আসতে থাকবে।

তাঁদের এই দান ছিল সবচেয়ে বড় নিয়ামতগুলোর একটি। সন্তান হওয়ার আশা যখন প্রায় শেষ, সেই বার্ধক্যে তাঁদের সন্তান লাভ করাও ছিল আরেকটি নিয়ামত। আর তাঁদের সন্তানরা নবী ও সৎকর্মশীল হওয়া ছিল আরও মহৎ ও শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। ‘নিশ্চয়ই আমার রব দোয়া শ্রবণকারী’—অর্থাৎ, যিনি তাঁর কাছে দোয়া করেন, তাঁর দোয়া কবুল করতে তিনি নিকটবর্তী। আমি তাঁর কাছে দোয়া করেছি, আর তিনি আমার আশা ব্যর্থ করেননি।

প্রতিমাগুলোর কারণে বহু মানুষ পথভ্রষ্ট হয়েছিল। ‘অতএব, যে আমার অনুসরণ করবে’—অর্থাৎ আমি যে তাওহীদ ও বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ ইবাদতের শিক্ষা নিয়ে এসেছি, তাতে যে আমার অনুসরণ করবে—‘সে আমার অন্তর্ভুক্ত’। পূর্ণ সামঞ্জস্যের কারণে এমন হয়; কোনো সম্প্রদায়কে যে ভালোবাসে এবং তাদের অনুসরণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হয়। ‘আর যে আমার অবাধ্য হবে, নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

এটি ছিল আল্লাহর বন্ধু ইবরাহীম (আ.)-এর স্নেহশীলতার নিদর্শন; তিনি অবাধ্যদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত চেয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি তাঁর চেয়েও অধিক দয়ালু; তিনি কেবল তাকেই শাস্তি দেন, যে তাঁর বিরুদ্ধে অবাধ্যতায় একগুঁয়ে হয়।

‘হে আমাদের রব! হিসাব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মুমিনদের ক্ষমা করো।’ এ ব্যাপারে আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেছিলেন। তবে তাঁর পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ছিল তাঁর কাছে দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতির কারণে। পরে যখন তাঁর কাছে স্পষ্ট হলো যে তাঁর পিতা আল্লাহর শত্রু, তখন তিনি তার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেন।

আর এই সুন্দর অবস্থায় ইবরাহীম (আ.)-এর কথা স্মরণ করো, যখন তিনি বলেছিলেন: ‘হে আমার রব! এই নগরীকে’—অর্থাৎ হারাম এলাকাকে—‘নিরাপদ করো।’ আল্লাহ বিধানগত ও তাকদিরগত—উভয়ভাবেই তাঁর দোয়া কবুল করেছিলেন। বিধানগতভাবে তিনি একে হারাম করেছেন এবং তাকদিরগতভাবে এর পবিত্রতা রক্ষার উপায় সহজ করে দিয়েছেন।

এর প্রমাণ সুপরিচিত: কোনো অত্যাচারী একে অনিষ্ট করতে চাইলে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেছেন, যেমন করেছিলেন হস্তীবাহিনী ও অন্যদের সঙ্গে। এরপর তিনি নগরীর নিরাপত্তার জন্য নিজের ও পুত্রদের পক্ষ থেকেও দোয়া করে বলেছিলেন: ‘আর আমাকে ও আমার সন্তানদের প্রতিমা পূজা থেকে দূরে রাখো।’ অর্থাৎ আমাকে ও তাদেরকে প্রতিমা পূজা এবং এর কাছাকাছি যাওয়া থেকেও বহু দূরে রাখো। এরপর তিনি তাঁর নিজের ও সন্তানদের ব্যাপারে ভয়ের কারণ উল্লেখ করলেন: বহু মানুষ প্রতিমা পূজায় প্রলুব্ধ হয়েছে ও পরীক্ষায় পড়েছে।

এরপর তিনি নিজের ও বংশধরদের জন্য দোয়া করে বললেন: ‘হে আমার রব! আমাকে সালাত প্রতিষ্ঠাকারী করো এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও।’

‘হে আমাদের রব! তুমি আমার দোয়া কবুল করো।’ অর্থাৎ, আমাদের তুলনায় তুমি আমাদের অবস্থা অধিক জানো। তাই তোমার ব্যবস্থাপনা ও প্রতিপালনের মাধ্যমে আমাদের জন্য এমন সব বিষয় সহজ করে দেওয়ার প্রার্থনা করছি, যা আমরা জানি এবং যা জানি না—যা তোমার জ্ঞান ও রহমতের দাবি।

‘আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না।’ এই দোয়াও তার অন্তর্ভুক্ত; আল্লাহর বিশ্বজগতের রবের প্রতি কৃতজ্ঞতা বৃদ্ধি করা ছাড়া আল্লাহর বন্ধু ইবরাহীমের আর কোনো উদ্দেশ্য এতে ছিল না।

ইমাম ইবন কাসিরের তাফসির

৩৫-৩৬ নং আয়াতের তাফসীর এই স্থলে আল্লাহ তাআলা আরবের মুশরিকদের বিরুদ্ধে হুজ্জত হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, পবিত্র ও মর্যাদাসম্পন্ন শহর মক্কা প্রথম সূচনাতেই আল্লাহ তাআলার তাওহীদ বা একত্ববাদের উপরেই নির্মাণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ এটা নির্মাণের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল এই যে, এখানে শুধুমাত্র একক ও শরীকহীন আল্লাহরই ইবাদত করা হবে। এর প্রথম নির্মাতা হযরত ইবরাহীম (আঃ) আল্লাহ ছাড়া অন্যদের উপাসনাকারীদের থেকে ছিলেন সম্পূর্ণ রূপে মুক্ত ও পৃথক। এটা যেন নিরাপদ শহর হয় এজন্যে তিনি আল্লাহ তাআলা নিকট প্রার্থনা করেছিলেন এবং তিনি তাঁর প্রার্থনা কবুল করেছিলেন।

সর্বপ্রথম বরকত ও হিদায়াতপূর্ণ আল্লাহর যে ঘর তা মক্কার এই ঘরটিই বটে। সেখানে অন্যান্য বহু নিদর্শন ছাড়াও মাকামে ইবরাহীম (আঃ) রয়েছে। এই শহরে যে পৌছবে। সে নিরাপত্তা লাভ করবে। এই শহরটি বানানোর পর হযরত ইবরাহীম খলীল (আঃ) প্রার্থনা করেছিলেনঃ “হে আল্লাহ!

এটাকে আপনি নিরাপত্তাপূর্ণ শহর বানিয়ে দিন। এ জন্যেই তিনি বলেনঃ “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে যিনি আমাকে বৃদ্ধ বয়সে ইসমাঈল (আঃ) ও ইসহাককে (আঃ) দান করেছেন।” হযরত ইসমাঈল (আঃ) বয়সে হযরত ইসহাক (আঃ) অপেক্ষা তের বছরের বড় ছিলেন। দুগ্ধপোষ্য শিশু অবস্থায় যখনহযরত ইসমাঈলকে (আঃ) তাঁর মাতাসহ হযরত ইবরাহীম (আঃ) এখানে এনেছিলেন তার পূর্বেও তিনি এটা নিরাপত্তাপূর্ণ শহর হওয়ার প্রার্থনা করেছিলেন।

কিন্তু ঐ সময় প্রার্থনার শব্দগুলি ছিল নিম্নরূপঃ (আরবি) অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আপনি এটাকে নিরাপদ শহর করে দিন।” এই দুআ’য় (আরবি) ও (আরবি) নেই। কেননা, এই প্রার্থনা ছিল এই শহরটি জনবসতিপূর্ণ হওয়ার পূর্বে। আর এর পর শহরটি আবাদ হয়ে গিয়েছিল বলে ।

শব্দকে আনা হয়েছে। সূরায়ে বাকারায় আমরা এগুলি বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছি। দ্বিতীয় দুআ’য় তিনি তাঁর সন্তানদেরকেও শরীক করেন। অতঃপর তিনি প্রতিমাগুলির পথভ্রষ্টতা ও ওগুলির ফিৎনা অধিকাংশ লোককে বিভ্রান্ত করার কথা বর্ণনা করতঃ তাদের প্রতি (অর্থাৎ প্রতিমা পূজকদের প্রতি) নিজের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং তাদেরকে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেন যে, তিনি ইচ্ছা করলে তাদেরকে ক্ষমা করবেন এবং ইচ্ছা করলে শাস্তি দিবেন।

যেমন হযরত ঈসা (আঃ) বলেছিলেনঃ “যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি দেন তবে তারা তো আপনারই বান্দা, আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করেন তবে আপনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” এটা স্মরণ রাখা দরকার যে, এটা শুধু আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় প্রত্যাবর্তন করা মাত্র। এটা নয় যে, ওটা সংঘটিতহওয়াকে বৈধ মনে করা। হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত ইবরাহীমের (আঃ) (আরবি) এই উক্তিটি এবং হযরত ঈসার (আঃ) (আরবি) (৫:১২৮) এই উক্তিটি পাঠ করেন।

অতঃপর হাত উঠিয়ে বলেনঃ “হে আল্লাহ! আমার উম্মত (এর কি হবে!)” এটা তিনি তিনবার বলেন। এবং কাঁদতে থাকেন। তখন আল্লাহ তাআলা হযরত জিবরাঈলকে (আঃ) তাঁর কাছে পাঠিয়ে তাঁকে তাঁর কাঁদার কারণ জিজ্ঞেস করতে বললেন। তিনি তখন হযরত জিবরাঈলকে (আঃ) তাঁর কাঁদার কারণ বললেন।

তখন আল্লাহ তাআলা হযরত জিবরাঈলকে (আঃ) হুকুম করলেনঃ “তুমি মুহাম্মদের (সঃ) কাছে গিয়ে বলঃ “আমি (আল্লাহ) তাকে তার উম্মতের ব্যাপারে খুশী করবো, অসন্তুষ্ট করবো না।”

৩৫-৩৬ নং আয়াতের তাফসীর এই স্থলে আল্লাহ তাআলা আরবের মুশরিকদের বিরুদ্ধে হুজ্জত হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, পবিত্র ও মর্যাদাসম্পন্ন শহর মক্কা প্রথম সূচনাতেই আল্লাহ তাআলার তাওহীদ বা একত্ববাদের উপরেই নির্মাণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ এটা নির্মাণের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল এই যে, এখানে শুধুমাত্র একক ও শরীকহীন আল্লাহরই ইবাদত করা হবে। এর প্রথম নির্মাতা হযরত ইবরাহীম (আঃ) আল্লাহ ছাড়া অন্যদের উপাসনাকারীদের থেকে ছিলেন সম্পূর্ণ রূপে মুক্ত ও পৃথক। এটা যেন নিরাপদ শহর হয় এজন্যে তিনি আল্লাহ তাআলা নিকট প্রার্থনা করেছিলেন এবং তিনি তাঁর প্রার্থনা কবুল করেছিলেন।

সর্বপ্রথম বরকত ও হিদায়াতপূর্ণ আল্লাহর যে ঘর তা মক্কার এই ঘরটিই বটে। সেখানে অন্যান্য বহু নিদর্শন ছাড়াও মাকামে ইবরাহীম (আঃ) রয়েছে। এই শহরে যে পৌছবে। সে নিরাপত্তা লাভ করবে। এই শহরটি বানানোর পর হযরত ইবরাহীম খলীল (আঃ) প্রার্থনা করেছিলেনঃ “হে আল্লাহ!

এটাকে আপনি নিরাপত্তাপূর্ণ শহর বানিয়ে দিন। এ জন্যেই তিনি বলেনঃ “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে যিনি আমাকে বৃদ্ধ বয়সে ইসমাঈল (আঃ) ও ইসহাককে (আঃ) দান করেছেন।” হযরত ইসমাঈল (আঃ) বয়সে হযরত ইসহাক (আঃ) অপেক্ষা তের বছরের বড় ছিলেন। দুগ্ধপোষ্য শিশু অবস্থায় যখনহযরত ইসমাঈলকে (আঃ) তাঁর মাতাসহ হযরত ইবরাহীম (আঃ) এখানে এনেছিলেন তার পূর্বেও তিনি এটা নিরাপত্তাপূর্ণ শহর হওয়ার প্রার্থনা করেছিলেন।

কিন্তু ঐ সময় প্রার্থনার শব্দগুলি ছিল নিম্নরূপঃ (আরবি) অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আপনি এটাকে নিরাপদ শহর করে দিন।” এই দুআ’য় (আরবি) ও (আরবি) নেই। কেননা, এই প্রার্থনা ছিল এই শহরটি জনবসতিপূর্ণ হওয়ার পূর্বে। আর এর পর শহরটি আবাদ হয়ে গিয়েছিল বলে ।

শব্দকে আনা হয়েছে। সূরায়ে বাকারায় আমরা এগুলি বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছি। দ্বিতীয় দুআ’য় তিনি তাঁর সন্তানদেরকেও শরীক করেন। অতঃপর তিনি প্রতিমাগুলির পথভ্রষ্টতা ও ওগুলির ফিৎনা অধিকাংশ লোককে বিভ্রান্ত করার কথা বর্ণনা করতঃ তাদের প্রতি (অর্থাৎ প্রতিমা পূজকদের প্রতি) নিজের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং তাদেরকে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেন যে, তিনি ইচ্ছা করলে তাদেরকে ক্ষমা করবেন এবং ইচ্ছা করলে শাস্তি দিবেন।

যেমন হযরত ঈসা (আঃ) বলেছিলেনঃ “যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি দেন তবে তারা তো আপনারই বান্দা, আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করেন তবে আপনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” এটা স্মরণ রাখা দরকার যে, এটা শুধু আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় প্রত্যাবর্তন করা মাত্র। এটা নয় যে, ওটা সংঘটিতহওয়াকে বৈধ মনে করা। হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত ইবরাহীমের (আঃ) (আরবি) এই উক্তিটি এবং হযরত ঈসার (আঃ) (আরবি) (৫:১২৮) এই উক্তিটি পাঠ করেন।

অতঃপর হাত উঠিয়ে বলেনঃ “হে আল্লাহ! আমার উম্মত (এর কি হবে!)” এটা তিনি তিনবার বলেন। এবং কাঁদতে থাকেন। তখন আল্লাহ তাআলা হযরত জিবরাঈলকে (আঃ) তাঁর কাছে পাঠিয়ে তাঁকে তাঁর কাঁদার কারণ জিজ্ঞেস করতে বললেন। তিনি তখন হযরত জিবরাঈলকে (আঃ) তাঁর কাঁদার কারণ বললেন।

তখন আল্লাহ তাআলা হযরত জিবরাঈলকে (আঃ) হুকুম করলেনঃ “তুমি মুহাম্মদের (সঃ) কাছে গিয়ে বলঃ “আমি (আল্লাহ) তাকে তার উম্মতের ব্যাপারে খুশী করবো, অসন্তুষ্ট করবো না।”

এটা হচ্ছে দ্বিতীয় দুআ। তাঁর প্রথম দুআ হচ্ছে তখনকার দুআ’টি যখন তিনি এই শহরটি আবাদ হওয়ার পূর্বে হযরত ইসমাঈলকে (আঃ) তাঁর মা সহ এখানে ছেড়ে এসেছিলেন। আর এটা হচ্ছে এ শহরটি আবাদ হওয়ার পরের দুআ’। এ জন্যেই তিনি (আরবি) (আপনার পবিত্র গৃহের নিকট) বলেছেন।

আর তিনি নামায কায়েম করার কথাও উল্লেখ করেছেন। ইমাম ইবনু জারীর (রঃ) বলেন, যে এটা (আরবি) শব্দের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। অর্থাৎ এটাকে মর্যাদা সম্পন্ন রূপে এজন্যেই বানানো হয়েছে যে, যেন এখানকার লোকেরা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে এখানে নামায আদায় করতে পারে। এখানে একথাটিও স্মরণ যোগ্য যে, হযরত ইবরাহীম (আঃ) বললেনঃ “কিছু লোকের অন্তর এর প্রতি অনুরাগী করে দিন।”

যদি তিনি সমস্ত লোকের অন্তর এর প্রতি অনুরাগী করে দেয়ার প্রার্থনা করতেন তবে পারসিক, রোমক, ইয়াহুদী, খৃস্টান, মোট কথা দুনিয়ার সমস্ত লোক এখানে এসে ভীড় জমাতো। তিনি শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্যে এই প্রার্থনা করেছিলেন। আর প্রার্থনায় তিনি বললেনঃ “ফলাদির দ্বারা তাদের রিকের ব্যবস্থা করুন।” অথচ এই যমীন ফল উৎপাদনের যোগ্যই নয়।

এটা তো অনুর্বর ভূমি। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর এই দুআ’ও কবুল করেন। ইরশাদহচ্ছেঃ “আমি কি তাদেরকে মর্যাদা সম্পন্ন নিরাপদ শহর দান করি নাই, যেখানে সর্বপ্রকারের ফল পূর্ণভাবে আমদানি হয়ে থাকে? এই রিকের ব্যবস্থা খাস করে আমার নিকট থেকেই করা হয়েছে।”

সুতরাং এটা আল্লাহ তাআলার একটা বিশেষ দান ও রহমত যে, এই শহরে কোন কিছুই জন্মে না, অথচ চতুর্দিক থেকে নানা প্রকারের ফল এখানে পূর্ণ মাত্রায় আমদানিহচ্ছে। এটা হচ্ছে হযরত ইবরাহীম খালীলুল্লাহরই (আঃ) দুআ’র বরকত।

৩৮-৪১ নং আয়াতের তাফসীর ইবনু জারীর (রঃ) বলেনঃ এখানে আল্লাহ তাআলা স্বীয় বন্ধু ইবরাহীম খালীলের (আঃ) সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, তিনি বলেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! আমার ইচ্ছা ও মনের বাসনা আমার চেয়ে আপনিই ভাল জানেন। আমি চাই যে, এখানকার অধিবাসীরা যেন আপনার সন্তুষ্টি কামনাকারী হয় এবং শুধুমাত্র আপনারই প্রতি অনুরাগী হয়। প্রকাশ্য ও গোপনীয় সবই আপনার কাছে পূর্ণরূপে জ্বাজ্জল্যমান।

যমীন ও আসমানের প্রতিটি জিনিসের অবস্থা সম্পর্কে আপনি ওয়াকিফহাল। এটা আমার প্রতি আপনার বড় অনুগ্রহ যে, এই বৃদ্ধ বয়সেও আপনি আমাকে ইসমাঈল (আঃ) ও ইসহাকের (আঃ) । নয় দু’টি সুসন্তান দান করেছেন। আপনি প্রার্থনা কবুলকারী বটে। আমি চেয়েছি আর আপনি দিয়েছেন।

সুতরাং হে আমার প্রতিপালক! এজন্যে আমি আপনার নিকট বড়ই কৃতজ্ঞ হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আপনি নামায প্রতিষ্ঠিতকারী বানিয়ে দিন এবং আমার সন্তানদের মধ্যেও এই সিলসিলা বা ক্ৰম কায়েম রাখুন! আমার সমস্ত প্রার্থনা কবুল করুন।” (আরবি) এই কিরআতটি কেউ কেউ (আরবি) এইরূপও করেছেন।

এটাও স্মরণ রাখার বিষয় যে, তাঁর পিতা যে আল্লাহর শত্রুতার উপর মারা গিয়েছিল এটা জানতে পারার পূর্বে তিনি এই দুআ করে ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি এটা জানতে পারেন তখন তিনি এর থেকে বিরত থাকেন। এখানে তিনি তাঁর পিতামাতা এবং সমস্ত মুমিনের পাপের জন্যে আল্লাহ তাআলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন যে, আমলের হিসাব গ্রহণ ও বিনিময় প্রদানের দিন যেন তাদের দোষত্রুটি ক্ষমা করে দেয়া হয়।

৩৮-৪১ নং আয়াতের তাফসীর ইবনু জারীর (রঃ) বলেনঃ এখানে আল্লাহ তাআলা স্বীয় বন্ধু ইবরাহীম খালীলের (আঃ) সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, তিনি বলেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! আমার ইচ্ছা ও মনের বাসনা আমার চেয়ে আপনিই ভাল জানেন। আমি চাই যে, এখানকার অধিবাসীরা যেন আপনার সন্তুষ্টি কামনাকারী হয় এবং শুধুমাত্র আপনারই প্রতি অনুরাগী হয়। প্রকাশ্য ও গোপনীয় সবই আপনার কাছে পূর্ণরূপে জ্বাজ্জল্যমান।

যমীন ও আসমানের প্রতিটি জিনিসের অবস্থা সম্পর্কে আপনি ওয়াকিফহাল। এটা আমার প্রতি আপনার বড় অনুগ্রহ যে, এই বৃদ্ধ বয়সেও আপনি আমাকে ইসমাঈল (আঃ) ও ইসহাকের (আঃ) । নয় দু’টি সুসন্তান দান করেছেন। আপনি প্রার্থনা কবুলকারী বটে। আমি চেয়েছি আর আপনি দিয়েছেন।

সুতরাং হে আমার প্রতিপালক! এজন্যে আমি আপনার নিকট বড়ই কৃতজ্ঞ হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আপনি নামায প্রতিষ্ঠিতকারী বানিয়ে দিন এবং আমার সন্তানদের মধ্যেও এই সিলসিলা বা ক্ৰম কায়েম রাখুন! আমার সমস্ত প্রার্থনা কবুল করুন।” (আরবি) এই কিরআতটি কেউ কেউ (আরবি) এইরূপও করেছেন।

এটাও স্মরণ রাখার বিষয় যে, তাঁর পিতা যে আল্লাহর শত্রুতার উপর মারা গিয়েছিল এটা জানতে পারার পূর্বে তিনি এই দুআ করে ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি এটা জানতে পারেন তখন তিনি এর থেকে বিরত থাকেন। এখানে তিনি তাঁর পিতামাতা এবং সমস্ত মুমিনের পাপের জন্যে আল্লাহ তাআলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন যে, আমলের হিসাব গ্রহণ ও বিনিময় প্রদানের দিন যেন তাদের দোষত্রুটি ক্ষমা করে দেয়া হয়।

৩৮-৪১ নং আয়াতের তাফসীর ইবনু জারীর (রঃ) বলেনঃ এখানে আল্লাহ তাআলা স্বীয় বন্ধু ইবরাহীম খালীলের (আঃ) সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, তিনি বলেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! আমার ইচ্ছা ও মনের বাসনা আমার চেয়ে আপনিই ভাল জানেন। আমি চাই যে, এখানকার অধিবাসীরা যেন আপনার সন্তুষ্টি কামনাকারী হয় এবং শুধুমাত্র আপনারই প্রতি অনুরাগী হয়। প্রকাশ্য ও গোপনীয় সবই আপনার কাছে পূর্ণরূপে জ্বাজ্জল্যমান।

যমীন ও আসমানের প্রতিটি জিনিসের অবস্থা সম্পর্কে আপনি ওয়াকিফহাল। এটা আমার প্রতি আপনার বড় অনুগ্রহ যে, এই বৃদ্ধ বয়সেও আপনি আমাকে ইসমাঈল (আঃ) ও ইসহাকের (আঃ) । নয় দু’টি সুসন্তান দান করেছেন। আপনি প্রার্থনা কবুলকারী বটে। আমি চেয়েছি আর আপনি দিয়েছেন।

সুতরাং হে আমার প্রতিপালক! এজন্যে আমি আপনার নিকট বড়ই কৃতজ্ঞ হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আপনি নামায প্রতিষ্ঠিতকারী বানিয়ে দিন এবং আমার সন্তানদের মধ্যেও এই সিলসিলা বা ক্ৰম কায়েম রাখুন! আমার সমস্ত প্রার্থনা কবুল করুন।” (আরবি) এই কিরআতটি কেউ কেউ (আরবি) এইরূপও করেছেন।

এটাও স্মরণ রাখার বিষয় যে, তাঁর পিতা যে আল্লাহর শত্রুতার উপর মারা গিয়েছিল এটা জানতে পারার পূর্বে তিনি এই দুআ করে ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি এটা জানতে পারেন তখন তিনি এর থেকে বিরত থাকেন। এখানে তিনি তাঁর পিতামাতা এবং সমস্ত মুমিনের পাপের জন্যে আল্লাহ তাআলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন যে, আমলের হিসাব গ্রহণ ও বিনিময় প্রদানের দিন যেন তাদের দোষত্রুটি ক্ষমা করে দেয়া হয়।

৩৮-৪১ নং আয়াতের তাফসীর ইবনু জারীর (রঃ) বলেনঃ এখানে আল্লাহ তাআলা স্বীয় বন্ধু ইবরাহীম খালীলের (আঃ) সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, তিনি বলেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! আমার ইচ্ছা ও মনের বাসনা আমার চেয়ে আপনিই ভাল জানেন। আমি চাই যে, এখানকার অধিবাসীরা যেন আপনার সন্তুষ্টি কামনাকারী হয় এবং শুধুমাত্র আপনারই প্রতি অনুরাগী হয়। প্রকাশ্য ও গোপনীয় সবই আপনার কাছে পূর্ণরূপে জ্বাজ্জল্যমান।

যমীন ও আসমানের প্রতিটি জিনিসের অবস্থা সম্পর্কে আপনি ওয়াকিফহাল। এটা আমার প্রতি আপনার বড় অনুগ্রহ যে, এই বৃদ্ধ বয়সেও আপনি আমাকে ইসমাঈল (আঃ) ও ইসহাকের (আঃ) । নয় দু’টি সুসন্তান দান করেছেন। আপনি প্রার্থনা কবুলকারী বটে। আমি চেয়েছি আর আপনি দিয়েছেন।

সুতরাং হে আমার প্রতিপালক! এজন্যে আমি আপনার নিকট বড়ই কৃতজ্ঞ হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আপনি নামায প্রতিষ্ঠিতকারী বানিয়ে দিন এবং আমার সন্তানদের মধ্যেও এই সিলসিলা বা ক্ৰম কায়েম রাখুন! আমার সমস্ত প্রার্থনা কবুল করুন।” (আরবি) এই কিরআতটি কেউ কেউ (আরবি) এইরূপও করেছেন।

এটাও স্মরণ রাখার বিষয় যে, তাঁর পিতা যে আল্লাহর শত্রুতার উপর মারা গিয়েছিল এটা জানতে পারার পূর্বে তিনি এই দুআ করে ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি এটা জানতে পারেন তখন তিনি এর থেকে বিরত থাকেন। এখানে তিনি তাঁর পিতামাতা এবং সমস্ত মুমিনের পাপের জন্যে আল্লাহ তাআলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন যে, আমলের হিসাব গ্রহণ ও বিনিময় প্রদানের দিন যেন তাদের দোষত্রুটি ক্ষমা করে দেয়া হয়।

আল-বাগাভির তাফসির

আল্লাহর বাণী: ‘হে আমাদের রব! আমি আমার বংশধরদের একাংশকে বসবাস করিয়েছি।’ এখানে ‘মিন’ (من) শব্দটি আংশিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আয়াতটির অর্থ: ‘আমি আমার বংশধরদের মধ্য থেকে এক সন্তানকে বসবাস করিয়েছি।’ ‘শস্যহীন উপত্যকায়’—এটি মক্কা; কারণ মক্কা দুই পাহাড়ের মাঝের এক উপত্যকা।

‘তোমার সম্মানিত ঘরের কাছে’—আল্লাহ একে সম্মানিত বলেছেন, কারণ এর কাছে এমন সব বিষয়ও নিষিদ্ধ, যা অন্য স্থানে নিষিদ্ধ নয়।

আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহিদ ইবন আহমদ আল-মালিহী; তাঁকে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন আবদুল্লাহ আন-নু‘আইমী; তাঁকে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ; তিনি বলেছেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল; তাঁকে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ; তিনি বলেছেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবদুর রাজ্জাক; তিনি বলেছেন: আমাদের অবহিত করেছেন মা‘মার; আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী এবং কাসীর ইবন আল-মুত্তালিব ইবন আবি ওয়াদাআর সূত্রে—তাঁদের একজন অপরজনের চেয়ে কিছু বেশি বর্ণনা করেছেন—সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে বর্ণিত, ইবন আব্বাস বলেছেন: নারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম মিখত (কোমরবন্ধনী) ব্যবহার করেছিলেন ইসমাঈল (আ.)-এর মা।

সারার কাছে তাঁর পদচিহ্ন আড়াল করার জন্য তিনি কোমরবন্ধনী বানিয়েছিলেন। এরপর ইবরাহীম (আ.) তাঁকে ও তাঁর দুগ্ধপোষ্য পুত্র ইসমাঈলকে নিয়ে এলেন এবং মসজিদের উঁচু অংশে, জমজম কূপের কাছে একটি গাছের নিচে তাঁদের রেখে গেলেন। তখন মক্কায় কেউ ছিল না, পানিও ছিল না।

তিনি তাঁদের সেখানে রেখে তাঁদের কাছে একটি থলিতে খেজুর এবং একটি মশকে পানি রাখলেন। তারপর ইবরাহীম ফিরে চললেন। ইসমাঈলের মা তাঁর পিছু নিলেন এবং বললেন, ‘হে ইবরাহীম, কোথায় যাচ্ছ? এই উপত্যকায়—যেখানে কোনো মানুষ নেই, কিছুই নেই—আমাদের রেখে যাচ্ছ?’

তিনি তাঁকে বারবার এ কথা বললেন, কিন্তু ইবরাহীম তাঁর দিকে ফিরেও তাকালেন না। তখন তিনি বললেন, ‘আল্লাহ কি আপনাকে এমন করতে আদেশ করেছেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘তাহলে তিনি আমাদের নষ্ট করবেন না।’ এরপর তিনি ফিরে গেলেন।

ইবরাহীম চলতে থাকলেন; অবশেষে এমন গিরিপথে পৌঁছালেন, যেখান থেকে তাঁরা তাঁকে দেখতে পাচ্ছিলেন না। তিনি কাবাঘরের দিকে মুখ করে ওই দোয়াগুলো করলেন এবং দুই হাত তুলে বললেন: ‘হে আমাদের রব! আমি আমার বংশধরদের একাংশকে শস্যহীন উপত্যকায় বসবাস করিয়েছি’—এভাবে তিনি ‘যাতে তারা কৃতজ্ঞ হয়’ পর্যন্ত পড়লেন।

ইসমাঈলের মা ইসমাঈলকে দুধ পান করাতেন এবং সেই পানি থেকে পান করতেন। মশকের পানি শেষ হয়ে গেলে তিনি ও তাঁর পুত্র তৃষ্ণার্ত হলেন। তিনি ইসমাঈলকে ছটফট করতে—অথবা বর্ণনাকারী বলেছেন, কাতরাতে—দেখলেন। তাঁকে দেখতে না পাওয়ার জন্য তিনি সেখান থেকে চলে গেলেন।

সাফা ছিল তাঁর নিকটতম পাহাড়; তিনি সেখানে উঠে উপত্যকার দিকে তাকিয়ে দেখলেন কাউকে দেখতে পান কি না, কিন্তু কাউকে দেখতে পেলেন না। তারপর সাফা থেকে নেমে উপত্যকায় পৌঁছে তাঁর জামার কিনারা তুলে ক্লান্ত মানুষের মতো দৌড়ে উপত্যকা পার হলেন। এরপর মারওয়ায় এসে সেখানে দাঁড়িয়ে দেখলেন কাউকে দেখতে পান কি না, কিন্তু কাউকে দেখতে পেলেন না। এভাবে তিনি সাতবার করলেন।

ইবন আব্বাস বলেন, নবী (সা.) বলেছেন: ‘এ কারণেই মানুষ এ দুটির মাঝে সাঈ করে।’

তিনি যখন মারওয়া পাহাড়ের ওপরে উঠলেন, একটি আওয়াজ শুনলেন। তিনি বললেন, ‘চুপ!’—নিজেকেই বলছিলেন। এরপর কান পেতে শুনলেন, আবারও আওয়াজ পেলেন। তখন বললেন, ‘তোমার কাছে সাহায্য থাকলে, আমি তোমার আওয়াজ শুনেছি।’ দেখলেন, জমজমের স্থানে একজন ফেরেশতা রয়েছেন।

তিনি তাঁর গোড়ালি দিয়ে—অথবা ডানা দিয়ে—মাটি খুঁড়লেন; তখন পানি বের হলো। ইসমাঈলের মা পানির মধ্যে নেমে হাত দিয়ে এভাবে পানি আটকে রাখতে লাগলেন এবং মশকে পানি ভরতে লাগলেন। পানি তোলার পরও তা উপচে উঠছিল। ইবন আব্বাস বলেন, নবী (সা.)

বলেছেন: ‘আল্লাহ ইসমাঈলের মায়ের প্রতি রহম করুন! তিনি যদি জমজমকে ছেড়ে দিতেন’—অথবা বলেছেন—‘যদি পানি না তুলতেন, তবে জমজম প্রবহমান ঝরনা হয়ে থাকত।’ এরপর তিনি পানি পান করলেন এবং তাঁর পুত্রকে দুধ পান করালেন। ফেরেশতা তাঁকে বললেন, ‘তোমরা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ভয় কোরো না।

এখানে আল্লাহর ঘর রয়েছে; এই বালক ও তার পিতা তা নির্মাণ করবে। আর আল্লাহ তাঁর ঘরের অধিবাসীদের নষ্ট করবেন না।’

ঘরটির স্থানটি ছিল ভূমির ওপর ঢিবির মতো উঁচু। বন্যার পানি এসে তার ডান ও বাঁ পাশ দিয়ে বয়ে যেত। এমনই ছিল, যতক্ষণ না জুরহুম গোত্রের একটি কাফেলা—অথবা জুরহুমের একটি পরিবার—কাদা পথ দিয়ে আসতে আসতে মক্কার নিচু অংশে অবতরণ করল। তারা একটি পাখিকে বারবার উড়তে দেখে বলল, ‘এই পাখিটি নিশ্চয়ই পানির ওপর চক্কর দিচ্ছে।

অথচ আমরা জানি, এই উপত্যকায় পানি নেই।’ তারা এক বা দুইজন লোককে পাঠাল; তারা পানির কাছে গিয়ে ফিরে এসে অন্যদের পানি থাকার খবর দিল। তখন তারা সবাই এগিয়ে এল। ইসমাঈলের মা পানির কাছে ছিলেন। তারা বলল, ‘আপনি কি আমাদের এখানে বসতি স্থাপনের অনুমতি দেবেন?’

তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তবে পানির ওপর তোমাদের কোনো অধিকার থাকবে না।’ তারা বলল, ‘ঠিক আছে।’ ইবন আব্বাস বলেন, নবী (সা.) বলেছেন: ‘এতে ইসমাঈলের মা খুশি হলেন; তিনি মানুষের সঙ্গ পছন্দ করতেন। তারা সেখানে বসতি স্থাপন করল এবং নিজেদের পরিবারের লোকদেরও ডেকে আনল।

পরে সেখানে তাদের কয়েকটি পরিবার বসবাস করতে লাগল। বালক বড় হয়ে তাদের কাছ থেকে আরবি শিখল। তারা তাকে আপন করে নিল এবং বড় হলে তার গুণে মুগ্ধ হলো। এরপর তাদেরই এক নারীকে তার সঙ্গে বিয়ে দিল। ইসমাঈলের মা মারা গেলে, ইসমাঈলের বিয়ের পর ইবরাহীম তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদের খোঁজ নিতে এলেন…’ এই কাহিনি আমরা সূরা আল-বাকারায় উল্লেখ করেছি।

আল্লাহর বাণী: ‘হে আমাদের রব! যাতে তারা সালাত কায়েম করে। অতএব, মানুষের অন্তরকে…’ ‘আফইদাহ’ (أفئدة) হলো ‘ফুয়াদ’ (فؤاد)-এর বহুবচন। ‘তাদের প্রতি অনুরাগী করে দাও’—অর্থাৎ তাদের প্রতি আকৃষ্ট ও তাদের জন্য ব্যাকুল করো। আস-সুদ্দী বলেন, এর অর্থ: মানুষের অন্তরকে এই স্থানের প্রতি আকৃষ্ট করো।

মুজাহিদ বলেন: ‘যদি তিনি বলতেন, “সব মানুষের অন্তর”, তাহলে ফারসী, রোমান, তুর্কি ও ভারতীয়রা তোমাদের সঙ্গে ভিড় করত।’ সাঈদ ইবন জুবাইর বলেন: ‘তাহলে ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মাজুসিরাও হজ করত; কিন্তু তিনি বলেছেন, “মানুষের মধ্য থেকে কিছু অন্তর”—তাঁরা হলেন মুসলিমরা।’

‘আর তাদের ফলমূল থেকে রিযিক দাও’—অর্থাৎ পানি-সমৃদ্ধ জনপদের অধিবাসীরা যে রিযিক পায়, সেই রকম রিযিক দাও। ‘যাতে তারা কৃতজ্ঞ হয়।’ আবু কাসীর ইবন—[এখানে বর্ণনাটি অসম্পূর্ণ]।

আল্লাহর বাণী: ‘হে আমার রব! নিশ্চয়ই এরা বহু মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে।’ অর্থাৎ এদের কারণে বহু মানুষ হিদায়াতের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং এদের ইবাদত করেছে। এটি বিপরীতভাবে প্রকাশের একটি ধরন; এর দৃষ্টান্ত আল্লাহর বাণী: ‘এ তো কেবল শয়তান, সে তার বন্ধুদের ভয় দেখায়’ (আলে ইমরান ৩:১৭৫)—অর্থাৎ সে তাদেরকে তার বন্ধুদের দ্বারা ভয় দেখায়।

কেউ বলেছেন, প্রতিমাগুলোকে পথভ্রষ্টকারী বলা হয়েছে, কারণ তারা পথভ্রষ্টতার কারণ হয়েছে। যেমন কেউ বলে, ‘দুনিয়া আমাকে প্রলুব্ধ করেছে’; অর্থাৎ দুনিয়াকে প্রলোভনের কারণ বলা হয়েছে।

‘অতএব, যে আমার অনুসরণ করবে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত’—অর্থাৎ সে আমার দ্বীনের অনুসারী। ‘আর যে আমার অবাধ্য হবে, নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ আস-সুদ্দী বলেন, এর অর্থ: ‘যে আমার অবাধ্য হওয়ার পর তওবা করবে।’ মুকাতিল ইবন হাইয়ান বলেন, ‘যে শিরক ছাড়া অন্য বিষয়ে আমার অবাধ্য হবে।’

আরেকটি মত হলো, আল্লাহ তাঁকে শিরক ক্ষমা করবেন না—এ কথা জানানোর আগে তিনি এ কথা বলেছিলেন।

‘হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই তুমি জানো আমরা যা গোপন করি এবং যা প্রকাশ করি’—অর্থাৎ আমাদের বিষয়গুলোর মধ্যে যা গোপন করি ও প্রকাশ করি। ইবন আব্বাস ও মুকাতিল বলেন, এর দ্বারা ইসমাঈল ও তাঁর মাকে শস্যহীন উপত্যকায় বসবাস করানোর সময় তাঁদের জন্য ইবরাহীমের অন্তরের ব্যাকুলতা বোঝানো হয়েছে। ‘আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না।’

কেউ বলেছেন, এটি ইবরাহীমের কথারই অংশ। অধিকাংশ আলেম বলেছেন, বরং আল্লাহ তাআলাই বলছেন: ‘আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না।’

আল্লাহর বাণী: ‘স্মরণ কর, ইবরাহীম বলেছিলেন, “হে আমার রব! এই নগরীকে”’—অর্থাৎ হারাম এলাকাকে—‘নিরাপদ করো’—এমন নিরাপত্তাময় করো, যাতে সেখানে নিরাপদে থাকা যায়। ‘আর আমাকে প্রতিমা পূজা থেকে দূরে রাখো’—অর্থাৎ আমাকে দূরে সরিয়ে রাখো। ‘জান্নাবতুহু আশ-শাই’ (جنبته الشيء), ‘আজ্নাবতুহু’ (أجنبته), ‘জান্নাবতুহু তাজনীबান’ এবং ‘ইজতানাবতুহু’—সবগুলোর অর্থ একই।

যদি বলা হয়, ইবরাহীম (আ.) তো প্রতিমা পূজা থেকে নিষ্পাপ ছিলেন; তাহলে তাঁর এই দোয়া কীভাবে সঙ্গত হয়? আর তাঁর বহু বংশধর প্রতিমা পূজা করেছে—তাহলে দোয়া কবুল হলো কোথায়? এর উত্তর হলো, ইবরাহীম (আ.)-এর জন্য দোয়াটি ছিল নিষ্পাপতা ও অবিচলতা আরও বাড়ানোর প্রার্থনা।

আর তাঁর বংশধরদের জন্য দোয়া বলতে তিনি নিজের ঔরসজাত বংশধরদের বুঝিয়েছিলেন; তাদের কেউ প্রতিমা পূজা করেনি। আরেকটি মত হলো, তিনি তাঁর বংশধরদের মধ্যে যারা মুমিন ছিল, তাদের জন্য দোয়া করেছিলেন।

‘হে আমাদের রব! আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করো।’ যদি বলা হয়, তাঁর পিতা-মাতা তো মুমিন ছিলেন না; তাহলে তিনি তাঁদের জন্য কীভাবে ক্ষমা চাইলেন? বলা হয়েছে, তাঁর মা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আবার বলা হয়েছে, তিনি এ অর্থে দোয়া করেছিলেন: ‘তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করলে এবং তওবা করলে তাঁদের ক্ষমা করো।’

এ-ও বলা হয়েছে, পিতার অবস্থা তাঁর কাছে স্পষ্ট হওয়ার আগেই তিনি এই দোয়া করেছিলেন। সূরা আত-তাওবায় আল্লাহ তাঁর বন্ধুর পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার ব্যাপারে তাঁর ওজর স্পষ্ট করেছেন। ‘আর মুমিনদের’—অর্থাৎ সব মুমিনকে ক্ষমা করো। ‘যেদিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে’—অর্থাৎ তা প্রকাশ ও স্পষ্ট হবে।

কেউ বলেছেন, এর অর্থ: যেদিন মানুষ হিসাবের জন্য দাঁড়াবে; হিসাবের উল্লেখই যথেষ্ট, কারণ তা সহজেই বোঝা যায়।

‘বার্ধক্যে আমাকে ইসমাঈল ও ইসহাককে দান করেছেন—সকল প্রশংসা আল্লাহর।’ ‘ওয়াহাবা’ (وهب) অর্থ, তিনি আমাকে দান করেছেন। ‘নিশ্চয়ই আমার রব দোয়া শ্রবণকারী।’ ইবন আব্বাস বলেন, ইবরাহীমের বয়স নিরানব্বই বছর হলে ইসমাঈল জন্মগ্রহণ করেন এবং একশ বারো বছর হলে ইসহাক জন্মগ্রহণ করেন।

সাঈদ ইবন জুবাইর বলেন, ইবরাহীমের বয়স একশ সতেরো বছর হলে তাঁকে ইসহাকের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছিল।

‘হে আমার রব! আমাকে সালাত প্রতিষ্ঠাকারী করো’—অর্থাৎ আমাকে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করো, যারা সালাতের রুকনগুলো যথাযথভাবে আদায় করে এবং তা সংরক্ষণ করে। ‘আর আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও’—অর্থাৎ আমার বংশধরদের মধ্য থেকে এমন লোক সৃষ্টি করো, যারা সালাত প্রতিষ্ঠা করে। ‘হে আমাদের রব!

আমার দোয়া কবুল করো’—অর্থাৎ আমার আমল ও ইবাদত কবুল করো; এখানে ইবাদতকে দোয়া বলা হয়েছে। হাদিসে এসেছে: ‘দোয়া ইবাদতের মর্ম।’ আরেকটি মত হলো, এর অর্থ: আমার দোয়ার জবাব দাও।

সমর্থনকারী হাদিস

সহিহ মুসলিমে (হাদিস নং ২৬৯৭) আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, মুমিন ব্যক্তি তার পিতা-মাতা ও ঈমানি ভাইদের জন্য যে দোয়া করে, তা মহান আল্লাহ কবুল করেন।

ট্যাগ
  • #ইবরাহীমের দোয়া
  • #শিরক থেকে সুরক্ষা
  • #সালাত প্রতিষ্ঠা
  • #মক্কার নিরাপত্তা
  • #সন্তান-সন্ততি
  • #মুমিনদের ক্ষমা

দোয়া অনুসন্ধান

বিষয়, সূরা, অনুবাদ, তাফসির বা আরবি লেখা দিয়ে খুঁজুন। আরবিতেও অনুসন্ধান করা যায়—হরকত দেওয়া আবশ্যক নয়।

↑ ↓ navigate · ↵ open · esc close ফলাফল →