رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي، فَاغْفِرْ لِي.
رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي
অডিও লোড করা যায়নি। পরে আবার চেষ্টা করুন।
সে বলল- ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি নিজের আত্মার উপর যুলম করেছি, অতএব আমাকে ক্ষমা কর।’ অতঃপর আল্লাহ তাকে ক্ষমা করলেন, অবশ্যই তিনি ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।
ধরন: ‘আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি’ (ظَلَمْتُ نَفْسِي)—এ কথা বলে অবিলম্বে তাওবা করা এবং ‘আমাকে ক্ষমা করুন’ (فَاغْفِرْ لِي)—এই প্রার্থনা করা। মূসা (আ.)-এর এই দোয়া মিসরীয় ব্যক্তিকে অনিচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করার পরের।
শাইখ আবদুর রহমান আস-সা’দির তাফসির
এরপর তিনি তাঁর প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন: “তিনি বললেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি, অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।’ তখন তিনি তাঁকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” বিশেষত বিনয়ী বান্দাদের প্রতি তিনি ক্ষমাশীল—যারা দ্রুত তাঁর দিকে ফিরে আসে এবং তাওবা করে; মূসা (আ.)-এর ক্ষেত্রেও যেমনটি ঘটেছিল।
ইমাম ইবন কাসিরের তাফসির
১৪-১৭ নং আয়াতের তাফসীর হযরত মূসা (আঃ)-এর বাল্যকালের বর্ণনা দেয়ার পর আল্লাহ তা'আলা তার যৌবনের ঘটনা বর্ণনা করছেন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাকে হিকমত ও জ্ঞান দান করলেন অর্থাৎ তাকে নবুওয়াত দিলেন। সৎ লোকেরা এরূপই প্রতিদান পেয়ে থাকেন। এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ ঐ ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন যা তার মিসর ত্যাগের কারণ হয়েছিল। তিনি মিসর ছেড়ে মাদইয়ানের পথে যাত্রা শুরু করেন।
ঘটনা এই যে, একদা হযরত মূসা (আঃ) নগরে বের হন মাগরিবের পরে অথবা যোহরের সময়, যখন জনগণ পানাহারে অথবা শয়নে লিপ্ত ছিল। তিনি বেশীদূর পথ অতিক্রম করেননি এমন সময় তিনি দেখতে পান যে, দু'টি লোক ঝগড়ায় লিপ্ত রয়েছে। একজন ছিল বানী ইসরাঈলের লোক এবং অপরজন ছিল কিবৃর্তীদের লোক। ইসরাঈলী তাঁর নিকট কিতীর অত্যাচারের অভিযোগ করে, যার ফলে তাঁর ক্রোধ এসে যায় এবং তিনি তাকে একটি ঘুষি মারেন।
এতেই সে তৎক্ষণাৎ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। হযরত মূসা (আঃ) এতে অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়েন এবং বলেনঃ “এটা শয়তানী কাজ এবং শয়তান তো প্রকাশ্য শত্রু ও বিভ্রান্তকারী।” অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন এবং আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রতি দয়াপরবশ হয়ে তাকে ক্ষমা করে দেন। তিনি তো ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।
এরপর হযরত মূসা (আঃ) বলেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! আপনি যেহেতু আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, আমি কখনো অপরাধীদের সাহায্যকারী হবো না। এটা আমি ওয়াদা করলাম।”
আল-বাগাভির তাফসির
“তিনি বললেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি’”—অর্থাৎ অনুমতি ছাড়াই কিবতীকে হত্যা করে। “অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।” তখন তিনি তাঁকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
‘সহিহ আল-বুখারি’ (নং ৭৫০৭)-তে একটি হাদিসে কুদসি বর্ণিত হয়েছে: “এক বান্দা পাপ করল এবং বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করুন!’ তখন আল্লাহ বললেন, ‘আমার বান্দা জানে যে তার এমন এক প্রতিপালক আছেন, যিনি পাপ ক্ষমা করেন… আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম!’”