رَبِّ أَنْزِلْنِي مُنْزَلًا مُبَارَكًا، وَأَنْتَ خَيْرُ الْمُنْزِلِينَ.
رَبِّ أَنْزِلْنِي مُنْزَلًا مُبَارَكًا وَأَنْتَ خَيْرُ الْمُنْزِلِينَ
অডিও লোড করা যায়নি। পরে আবার চেষ্টা করুন।
আর বলো : হে আমার প্রতিপালক! আমাকে কল্যাণকরভাবে নামিয়ে দাও, নামানোতে তুমিই সর্বোত্তম।
রূপ: আদেশসূচক ক্রিয়া «আনযিলনী» (أَنْزِلْنِي — আমাকে অবতরণ করাও/নামিয়ে দাও)। নতুন বাড়ি বা শহরে প্রবেশের সময়, সফরে কিংবা জীবনের নতুন কোনো অবস্থায় পৌঁছালে এই দোয়া করা হয়।
শাইখ আবদুর রহমান আস-সা’দির তাফসির
(আর বলো, “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে বরকতময় স্থানে অবতরণ করাও, আর তুমিই অবতরণ করানোর ক্ষেত্রে সর্বোত্তম।” ) অর্থাৎ, তোমাদের ওপর আরও একটি অনুগ্রহ অবশিষ্ট রয়েছে; সে বিষয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো: তিনি যেন তোমাদের জন্য একটি বরকতময় আবাসের ব্যবস্থা সহজ করে দেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করলেন।
আল্লাহ বলেন: “আর বিষয়টির পরিসমাপ্তি ঘটল, নৌযানটি জূদী পর্বতে স্থির হলো এবং বলা হলো, ‘জালিম সম্প্রদায়ের জন্য ধ্বংস!’” এরপর তিনি বলেন: “বলা হলো, ‘হে নূহ! আমার পক্ষ থেকে শান্তি ও বরকতসহ অবতরণ করো—তোমার ওপর এবং তোমার সঙ্গে থাকা সম্প্রদায়গুলোর ওপর।’” (আয়াত)
ইমাম ইবন কাসিরের তাফসির
আল্লাহ তা'আলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, হযরত নূহ (আঃ) যখন তাঁর কওমের হিদায়াত প্রাপ্তি হতে নিরাশ হয়ে গেলেন তখন তিনি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলেনঃ হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সাহায্য করুন! যারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে তাদের উপর আমাকে জয়যুক্ত করুন! যেমন অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তখন সে তার প্রতিপালককে আহ্বান করে বলেছিলঃ আমি তো অসহায়, অতএব, তুমি প্রতিবিধান কর।”
(৫৪:১০) তৎক্ষণাৎ মহান আল্লাহ তাঁর কাছে অহী করলেনঃ তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার অহী অনুযায়ী নৌযান নির্মাণ কর এবং তাতে প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়া উঠিয়ে নাও এবং তোমার পরিবার-পরিজনকেও উঠিয়ে নাও তাদেরকে ছাড়া যাদের বিরুদ্ধে পূর্বেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। তাদের সম্পর্কে তুমি আমাকে কিছু বলো না, তারা তো নিমজ্জিত হয়ে যাবে। তারা হলো তাঁর কওমের কাফির লোকেরা এবং তাঁর স্ত্রী ও তাঁর পুত্র। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জনেন।
এর পূর্ণ ঘটনা সূরায়ে হূদের তাফসীরে গত হয়েছে। সুতরাং এখানে পুনরাবৃত্তির কোন প্রয়োজন নেই। মহান আল্লাহ বলেন, যখন তুমি ও তোমার সঙ্গীরা নৌযানে আসন গ্রহণ করবে তখন বলবেঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি আমাদেরকে উদ্ধার করেছেন যালিম সম্প্রদায় হতে। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “এবং যিনি তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেন এমন নৌযান ও চতুষ্পদ জন্তু যাতে তোমরা আরোহণ কর।
যাতে তোমরা ওদের পৃষ্ঠে স্থির হয়ে বসতে পার, তারপর তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ স্মরণ কর যখন তোমরা ওর উপর স্থির হয়ে বস; এবং বলঃ পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি এগুলোকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যদিও আমরা সমর্থ ছিলাম না এগুলোকে বশীভূত করতে। আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করাবো।” (৪৩:১২-১৪) হযরত নূহ (আঃ) এ কথাই বলেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “সে বললোঃ এতে আরোহণ কর, আল্লাহর নামে এর গতি ও স্থিতি, আমার প্রতিপালক অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
(১১:৪১) সুতরাং নৌকা চলতে শুরু করার সময়ও তিনি আল্লাহকে স্মরণ করেন এবং যখন ওটা থামবার উপক্রম হয় তখনও তিনি আল্লাহকে স্মরণ করেন। তিনি প্রার্থনা করেনঃ হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এমনভাবে অবতরণ করান যা হবে কল্যাণকর; আর আপনিই শ্রেষ্ঠ অবতারণকারী। এতে অর্থাৎ মুমিনদের মুক্তি ও কাফিরদের ধ্বংসের মধ্যে নবীদের সত্যতার নিদর্শন রয়েছে এবং এই আলামত রয়েছে যে, আল্লাহ যা চান তাই করে থাকেন।
তিনি প্রত্যেক জিনিসের উপর ক্ষমতাবান। তিনি সবকিছু অবগত আছেন। নিশ্চয়ই তিনি রাসূলদেরকে পাঠিয়ে স্বীয় বান্দাদেরকে পরীক্ষা করে থাকেন।
আল-বাগাভির তাফসির
(আর বলো, “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে বরকতময় স্থানে অবতরণ করাও।” ) আবু বকর, আসিম থেকে «مَنْزِلًا» শব্দটি মীমে যবর ও যায়ে যের দিয়ে পড়েছেন; এর অর্থ অবতরণের স্থান। কেউ বলেছেন, নৌযানে আরোহণের পর সেটিই ছিল সেই স্থান; আবার কেউ বলেছেন, অবতরণের পর পৃথিবী।
এও হতে পারে যে, তিনি নৌযানের ভেতরে থাকার সময় এটি বলেছিলেন; আবার এও হতে পারে যে, নৌযান থেকে বের হওয়ার পর বলেছিলেন। অন্য পাঠকেরা «مُنْزَلًا» শব্দটি মীমে পেশ ও যায়ে যবর দিয়ে পড়েছেন; এর অর্থ অবতরণ করানো। নৌযানে বরকত ছিল নাজাত বা মুক্তি, আর নৌযান থেকে বেরিয়ে অবতরণের পর বরকত ছিল তাঁর তিন পুত্রের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি। (আর তুমিই অবতরণ করানোর ক্ষেত্রে সর্বোত্তম।)
সহিহ মুসলিমে (নং ২৭০৮) খাওলা বিনত হাকীম (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী (সা.) যেকোনো নতুন স্থানে অবস্থান করলে সেখানে আশ্রয় প্রার্থনার দোয়া পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।