দোয়া 37 অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা 4 মিনিট পড়তে

জালিমদের শাস্তি থেকে আশ্রয়

নবী মুহাম্মদ ﷺ 23:94
আরবি পাঠ

رَبِّ فَلَا تَجْعَلْنِي فِي الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ.

رَبِّ فَلَا تَجْعَلْنِي فِي الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ

আরবি পাঠ হরকতসহ কুরআন থেকে নেওয়া হয়েছে। المؤمنون 23:94
দোয়া শুনুন 0:00 0:00
কণ্ঠস্বর
প্রতিবর্ণীকরণ Rabbi fa-lā tajʿalnī fī al-qawmi al-ẓālimīn
ভাবানুবাদ
Taisirul QuranBN

তাহলে হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে যালিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করো না’।

অর্থ ও বৈশিষ্ট্য

রূপ: «লা তাজ‘আলনী» (تَجْعَلْنِي لاَ)—নিষেধসূচক গঠন। পাপী ও জুলুমকারীদের ওপর আপতিত শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রার্থনা।

ব্যাখ্যা ও শিক্ষা

শাইখ আবদুর রহমান আস-সা’দির তাফসির

৯৩ ও ৯৪ নম্বর আয়াতের তাফসির: আল্লাহ তা‘আলা অস্বীকারকারীদের সামনে তাঁর মহান নিদর্শনগুলো প্রতিষ্ঠা করার পরও তারা সেগুলোর প্রতি মনোযোগ দেয়নি এবং সেগুলোর কাছে আত্মসমর্পণ করেনি। ফলে তাদের ওপর শাস্তি অবধারিত হয়েছে এবং তাদের শাস্তি নেমে আসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাঁর রাসূলকে নির্দেশ দিলেন, তিনি যেন বলেন: «বলুন, হে আমার প্রতিপালক! যদি তুমি আমাকে তাদের যে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা দেখাও»—অর্থাৎ, যে কোনো সময় তুমি আমাকে তাদের শাস্তি দেখাও এবং তা প্রত্যক্ষ করাও—«তাহলে হে আমার প্রতিপালক!

আমাকে জালিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রেখো না»। অর্থাৎ, তাদের যে পাপের কারণে শাস্তি অবধারিত হয়েছে, তা থেকে আমাকে রক্ষা করো এবং আমার প্রতি দয়া করো। তাদের ওপর যে শাস্তি নেমে আসবে, তা থেকেও আমাকে নিরাপদ রাখো; কারণ সাধারণ শাস্তি নেমে এলে তা অবাধ্য ও অন্য—উভয়কেই গ্রাস করে।

ইমাম ইবন কাসিরের তাফসির

৯৩-৯৮ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবী মুহাম্মাদ (সঃ)-কে নির্দেশ নিচ্ছেন যে, শাস্তি অবতীর্ণ হওয়ার সময় তিনি যেন দু'আ করেনঃ হে আমার প্রতিপালক! আপনি যদি আমার বিদ্যমানতায় ঐ অসৎ লোকদের উপর শাস্তি অবতীর্ণ করেন তবে আমাকে ঐ শাস্তি হতে বাঁচিয়ে নিন। যেমন হাদীসে এসেছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “যখন আপনি কোন কওমকে ফিৎনায় পতিত করার ইচ্ছা করেন তখন ফিৎনায় পতিত করার পূর্বেই আমাকে আপনার নিকট উঠিয়ে নেন।”

(এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) এবং ইমাম তিরিমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী (রঃ) এটাকে বিশুদ্ধ বলেছেন)আল্লাহ পাক স্বীয় নবী (সঃ)-কে এই শিক্ষা দেয়ার পর বলেনঃ আমি তাদেরকে যে বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি তা আমি তোমাকে দেখাতে অবশ্যই সক্ষম। অর্থাৎ আমার পক্ষ থেকে ঐ কাফিরদের উপর যে শাস্তি ও বিপদ-আপদ আসবে তা ইচ্ছা করলে আমি তোমাকে দেখাতে পারি। এরপর মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল (সঃ)-কে এমন কথা শিখিয়ে দিচ্ছেন যা সমস্ত কঠিন সমস্যা ও বিপদ-আপদ দূর করতে সক্ষম। তা হলো, তুমি মন্দের মুকাবিলা কর যা উত্তম তা দ্বারা; তারা যা বলে আমি সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবগত।

অর্থাৎ যারা তোমার সাথে মন্দ ব্যবহার করে তুমি তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার কর যাতে তাদের শত্রুতা বন্ধুত্বে এবং ঘৃণা প্রেম-প্রীতিতে পরিবর্তিত হয়। যেমন অন্য আয়াতে তিনি বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “মন্দ প্রতিহত কর উৎকৃষ্ট দ্বারা; ফলে তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত। এই গুণের অধিকারী করা হয় শুধু তাদেরকেই যারা ধৈর্যশীল; এই গুণের অধিকারী করা হয় শুধু তাদেরকেই যারা। মহা ভাগ্যবান।”

(৪১:৩৪-৩৫)মানুষের অনিষ্ট থেকে বাঁচবার উত্তম পন্থা বলে দেয়ার পর মহান আল্লাহ, শয়তানের অনিষ্ট হতে বাঁচবার উপায় বলে দিচ্ছেনঃ বল, হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি শয়তানের প্ররোচনা হতে। কেননা, তার প্ররোচনা হতে বাঁচবার অস্ত্র এই প্রার্থনা ছাড়া তোমাদের অধিকারে আর কিছুই নেই। সদাচরণ দ্বারা সে মানুষের বশে আসতে পারে না।

আশ্রয় প্রার্থনা করার বর্ণনায় আমরা লিখে এসেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) পাঠ করতেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি শ্রোতা ও জ্ঞাতা আল্লাহর নিকট বিতাড়িত শয়তানের প্ররোচনা, কুমন্ত্রণা ও ফুৎকার হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” আল্লাহ তা'আলার উক্তিঃ (আরবী) অর্থাৎ হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার নিকট তাদের উপস্থিতি হতে। শয়তান যেন আমার কোন কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে।

সুতরাং প্রত্যেক কাজের প্রারম্ভে আল্লাহর স্মরণ ঐ কাজের মধ্যে শয়তানের প্রবেশকরণকে সরিয়ে রাখে। পানাহার, সহবাস, যবেহ ইত্যাদি প্রত্যেকটি কাজের শুরুতে আল্লাহকে স্মরণ করা উচিত। বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) নিম্নের দু'আটিও পাঠ করতেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি অতি বার্ধক্য হতে, আশ্রয় চাচ্ছি পিষ্ট হয়ে (আকস্মিকভাবে) মৃত্যুবরণ করা হতে ও ডুবে মরা হতে এবং শয়তান যেন আমাকে আমার মৃত্যুর সময় বিভ্রান্ত করতে না পারে সে জন্যে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কছি।”

(এটা ইমাম আবু দাউদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আমর ইবনে শশাআইব (রাঃ) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাদেরকে একটি দু'আ শিখাতেন যেন ওটা আমা ঘুমোবার সময় পাঠ করি যাতে উদ্বেগের কারণে নিদ্রা ভঙ্গ হয়ে যাওয়ার রাগে দূর হয়ে যায়। তা হলোঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি আল্লাহর নামে তাঁর পূর্ণ কালেমার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি তার গযব হতে, তার শাস্তি হতে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট হতে, শয়তানদের প্ররোচনা হতে এবং আমার নিকট তাদের উপস্থিতি হতে।”

হযরত ইবনে উমার (রাঃ)-এর নীতি ছিল এই যে, তিনি তাঁর প্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদেরকে উপরোক্ত দু'আটি শিখিয়ে দিতেন এবং এটা লিখে অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদের গলায় লটকিয়ে দিতেন। (ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু দাঊদ (রঃ), ইমাম তিরমিযী (রঃ) ইমাম নাসাঈও (রঃ) এটা বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী (রঃ) এটাকে হাসান গারীব বলেছেন)

আল-বাগাভির তাফসির

«হে আমার প্রতিপালক»—অর্থাৎ, হে আমার রব! «আমাকে জালিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রেখো না»—অর্থাৎ, তাদের ধ্বংসের সঙ্গে আমাকে ধ্বংস করো না।

সমর্থনকারী হাদিস

ইমাম আহমদের «মুসনাদ» (নং ২২১২৫)-এ বর্ণিত হয়েছে, নবী ﷺ এই দোআ করতেন: «হে আল্লাহ! তুমি যদি কোনো সম্প্রদায়ের জন্য পরীক্ষা নির্ধারণ করো, তবে আমাকে পরীক্ষাগ্রস্ত না করে তোমার কাছে তুলে নাও!»

ট্যাগ
  • #দোআ
  • #জালিম
  • #শাস্তি
  • #পাপ
  • #আল্লাহর আশ্রয়
  • #নবী মুহাম্মদ ﷺ

দোয়া অনুসন্ধান

বিষয়, সূরা, অনুবাদ, তাফসির বা আরবি লেখা দিয়ে খুঁজুন। আরবিতেও অনুসন্ধান করা যায়—হরকত দেওয়া আবশ্যক নয়।

↑ ↓ navigate · ↵ open · esc close ফলাফল →