জালিমদের থেকে মুক্তির দুআ
رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ، وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ.
رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
অডিও লোড করা যায়নি। পরে আবার চেষ্টা করুন।
তখন তারা বলল, ‘‘আমরা আল্লাহর উপরই ভরসা করি, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে যালিম জাতির অত্যাচারের পাত্র করো না, আর তোমার অনুগ্রহে আমাদেরকে কাফির সম্প্রদায় থেকে রক্ষা কর।’’
রূপ: নিষেধসূচক বাক্য «লা তাজ‘আলনা» (لَا تَجْعَلْنَا — আমাদেরকে করো না) এবং প্রার্থনাসূচক «নাজ্জিনা» (نَجِّنَا — আমাদেরকে রক্ষা করো)। আল্লাহর উপর ভরসাকারী মূসা (আ.)-এর সম্প্রদায়ের নির্যাতিত যুবকেরা এই দুআ করেছিলেন।
শাইখ আবদুর রহমান আস-সা’দির তাফসির
তারা তাঁর নির্দেশ পালন করে বলল, «আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে জালিম সম্প্রদায়ের জন্য ফিতনা (فتنة) বানিও না»—অর্থাৎ, তাদেরকে আমাদের উপর কর্তৃত্ব দিও না, যাতে তারা আমাদের নির্যাতন করে; অথবা আমাদের পরাজিত করে, ফলে তারা এ কারণে ফিতনায় পড়ে বলে, ‘তারা যদি সত্যের উপর থাকত, তবে পরাজিত হতো না।’
«আর তোমার রহমতে আমাদেরকে কাফির সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করো»—যাতে আমরা তাদের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকি এবং এমনভাবে আমাদের দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে পারি, যেন তার বিধানসমূহ পালন করা এবং কোনো বিরোধী বা প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই তা প্রকাশ করা সম্ভব হয়।
ইমাম ইবন কাসিরের তাফসির
৮৪-৮৬ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, মূসা (আঃ) বানী ইসরাঈলকে বললেনযদি তোমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেই থাকো, তবে একমাত্র তাঁরই উপর ভরসা কর। আল্লাহ তা'আলা ভরসাকারীদের যিম্মাদার হয়ে যান। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আল্লাহ তা'আলা ইবাদৃত ও তাওয়াক্কুলকে এক জায়গায় মিলিয়ে বলেছেন। যেমন বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা তাঁর ইবাদত কর এবং তার উপর ভরসা কর।”
(১১:১২৩) অন্যত্র বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “(হে নবী সঃ)! তুমি বল-তিনি রহমান, আমরা তাঁর উপর ঈমান এনেছি এবং তাঁর উপর ভরসা করেছি।” (৬৭:২৯) আল্লাহ তা'আলা মুমিনদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা যেন প্রতিটি সালাতে কয়েকবার বলেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমরা আপনারই ইবাদত করি এবং আপনার নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করি।” বানী ইসরাঈল মূসা (আঃ)-এর কথা মেনে নেয় এবং বলেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমরা আল্লাহরই উপর ভরসা করলাম, হে আমাদের প্রতিপালক!
আমাদেরকে এই যালিমদের লক্ষ্যস্থল বানাবেন না।” অর্থাৎ আমাদের উপর তাদেরকে সফলতা দান করবেন না। তা না হলে তারা ধারণা করবে যে, তারাই সঠিক পথে রয়েছে এবং বানী ইসরাঈল বাতিল পথে রয়েছে। ফলে তারা আমাদের উপর আরো বেশী যুলুম করবে। হে আমাদের প্রতিপালক!
ফিরআউনের লোকদের হাতে আমাদের শাস্তি দিবেন না এবং নিজের শাস্তিতেও আমাদেরকে জড়িত করবেন না। নতুবা ফিরআউনের কওম বলবে যে, যদি লোকগুলো সত্যের উপরই থাকতো তবে কখনো আযাবে জড়িত হতো না এবং আমরা (ফিরাউনের কওম) তাদের উপর জয়যুক্ত হতাম না। হে আল্লাহ! আপনার রহমত ও ইহসানের মাধ্যমে আমাদেরকে এই কাফির কওম হতে মুক্তিদান করুন।
এরা হলো কাফির, আর আমরা হলাম মুমিন। আমরা আপনারই উপর ভরসা রাখি।
৮৪-৮৬ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, মূসা (আঃ) বানী ইসরাঈলকে বললেনযদি তোমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেই থাকো, তবে একমাত্র তাঁরই উপর ভরসা কর। আল্লাহ তা'আলা ভরসাকারীদের যিম্মাদার হয়ে যান। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আল্লাহ তা'আলা ইবাদৃত ও তাওয়াক্কুলকে এক জায়গায় মিলিয়ে বলেছেন। যেমন বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা তাঁর ইবাদত কর এবং তার উপর ভরসা কর।”
(১১:১২৩) অন্যত্র বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “(হে নবী সঃ)! তুমি বল-তিনি রহমান, আমরা তাঁর উপর ঈমান এনেছি এবং তাঁর উপর ভরসা করেছি।” (৬৭:২৯) আল্লাহ তা'আলা মুমিনদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা যেন প্রতিটি সালাতে কয়েকবার বলেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমরা আপনারই ইবাদত করি এবং আপনার নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করি।” বানী ইসরাঈল মূসা (আঃ)-এর কথা মেনে নেয় এবং বলেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমরা আল্লাহরই উপর ভরসা করলাম, হে আমাদের প্রতিপালক!
আমাদেরকে এই যালিমদের লক্ষ্যস্থল বানাবেন না।” অর্থাৎ আমাদের উপর তাদেরকে সফলতা দান করবেন না। তা না হলে তারা ধারণা করবে যে, তারাই সঠিক পথে রয়েছে এবং বানী ইসরাঈল বাতিল পথে রয়েছে। ফলে তারা আমাদের উপর আরো বেশী যুলুম করবে। হে আমাদের প্রতিপালক!
ফিরআউনের লোকদের হাতে আমাদের শাস্তি দিবেন না এবং নিজের শাস্তিতেও আমাদেরকে জড়িত করবেন না। নতুবা ফিরআউনের কওম বলবে যে, যদি লোকগুলো সত্যের উপরই থাকতো তবে কখনো আযাবে জড়িত হতো না এবং আমরা (ফিরাউনের কওম) তাদের উপর জয়যুক্ত হতাম না। হে আল্লাহ! আপনার রহমত ও ইহসানের মাধ্যমে আমাদেরকে এই কাফির কওম হতে মুক্তিদান করুন। এরা হলো কাফির, আর আমরা হলাম মুমিন। আমরা আপনারই উপর ভরসা রাখি।
আল-বাগাভির তাফসির
«তারা বলল, আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করেছি»—অর্থাৎ, আমরা তাঁর উপর নির্ভর করেছি। এরপর তারা দুআ করে বলল, «হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে জালিম সম্প্রদায়ের জন্য ফিতনা বানিও না»—অর্থাৎ, তাদেরকে আমাদের উপর বিজয়ী করো না এবং তাদের হাতে আমাদের ধ্বংস করো না; তাহলে তারা মনে করবে, আমরা সত্যের উপর ছিলাম না, ফলে তাদের অবাধ্যতা আরও বেড়ে যাবে। মুজাহিদ বলেছেন: ‘আমাদেরকে তোমার পক্ষ থেকে কোনো শাস্তি দিয়ে শাস্তি দিও না; তাহলে ফিরআউনের সম্প্রদায় বলবে, তারা যদি সত্যের উপর থাকত, তবে শাস্তি পেত না।
আর তারা নিজেদেরকে আমাদের চেয়ে উত্তম মনে করবে এবং ফিতনায় পড়বে।’ «আর তোমার রহমতে আমাদেরকে কাফির সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করো»।
«সহিহ আল-বুখারি» (নং ৬৩৪৭)-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী (সা.) কঠিন বিপদাপদ এবং শত্রুর আধিপত্য থেকে আশ্রয় চেয়ে দুআ করতেন।